শ্যামনগর
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের শিশু, মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

সংগৃহীত ছবি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গুমানতলী ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলমের বিরুদ্ধে।
শিশুটির পরিবারের দাবি, প্রায় আট মাস আগে প্রাইভেট পড়ানোর সময় জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। বর্তমানে শিশুটি প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় আরও দুই কিশোরের বিরুদ্ধে ভিডিও ধারণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও সাইবার আইনে মামলা করেছেন শিশুটির নানি। আজ সোমবার দুপুরে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলার বাদীর অভিযোগ, গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন। পরে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে শিক্ষক নুর আলমও শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। তার মা সৌদি আরবে থাকেন।
মামলার এজাহার ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করেন তার এক আত্মীয়। এরপর গত ১০ অক্টোবর তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরীক্ষায় শিশুটি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মামলার বাদীর অভিযোগ, হযরত ও আবু হাসান শিশুটির ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়িতে আসতেন। একপর্যায়ে গোসলের পর পোশাক পরিবর্তনের সময় শিশুটির গোপনে ভিডিও ধারণ করেন তারা। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাইভেট পড়তে গেলে শিক্ষক নুর আলম তাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।
এদিকে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষক নুর আলমের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
গুমানতলী কামিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে একটি দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষককে সোমবার শোকজ করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম বলেছেন, শিশুটির নানি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে গেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।




