ঈদযাত্রায় পাটুরিয়ায় যাত্রী ও যানবাহন বাড়লেও ভোগান্তি নেই

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ। এতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এখনও যাত্রী ও যানবাহনের তেমন চাপ বাড়েনি। ফলে ঘাট পার হতে আসা যাত্রী ও যানবাহনগুলো ভোগান্তি ছাড়াই ফেরি আসা মাত্রই উঠে যাচ্ছে। লঞ্চ ঘাটেও খুব একটা যাত্রীর চাপ নেই।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় এই চিত্র দেখা গেছে।
ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আজ থেকে সরকারি দপ্তরে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।দূরপাল্লার যানবাহনে করে যাত্রীদের অনেকেই পাটুরিয়া ঘাটে আসছেন। এরপর ফেরিতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ পার হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে যাত্রী ও যানবাহনগুলো। অনেকে পাটুরিয়া লঞ্চেও নৌপথ পারাপার হচ্ছে। তবে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
দেখা গেছে, দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস পাটুরিয়া ঘাটে আসার পর কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে অল্প সময়ের মধ্যেই ফেরিতে উঠে পড়ছে। পাঁচটি ঘাটের মধ্যে ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন ফেরিতে উঠানামা করছে। তবে মুল সড়ক থেকে পন্টুনগুলো নিচু হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়ক হয়ে ফেরিতে ওঠানামা করতে যানবাহনগুলোকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এতে সময় কিছুটা বেশি লাগছে।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার লোকমান হোসেন (৪০) বলেছেন, ঈদ করতে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। ছুটি নিয়ে আগেভাগেই বাড়িতে যাচ্ছি কারণ পরে ঘাট এলাকায় চাপ পড়বে। ভোগান্তি থেকে বাঁচতে আগেই বাড়ি যাচ্ছি।
এ দিকে লঞ্চের যাত্রীরা লোকাল বাসে করে পাটুরিয়া পুরাতন ট্রাকটার্মিনালে এসে নামছেন। এরপর প্রায় আধা কিলোমিটার হেঁটে অথবা রিকশা, তিন চাকার ইজিবাইকে লঞ্চঘাটে এসে টিকেট সংগ্রহ করে লঞ্চে ওঠছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। আর বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানিয়েছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে মোট ২২টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আব্দুস সালাম বলেছেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি রয়েছে। তবে ফেরি নামা-ওঠার সড়কগুলো ঢালু বেশি হওয়ায় ফেরিতে যানবাহন উঠানামা করাতে সময় কিছুটা বেশি লাগছে। ঈদে ভোগান্তি ছাড়াই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ পারাপার হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

