পদ্মায় বাস ডুবি
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর কাছে ফিরল চালক আরমানের মরদেহ

ছবিঃ আগামীর সময়
ঈদের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। দুই মেয়ে আর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য হয়তো মনে মনে অনেক পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আনন্দ বদলে গেল বিষাদে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় নিহত চালক আরমান খানের (৩২) মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নার রোলে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
নিহত আরমান খান রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খালকুলা গ্রামের আরব খানের ছেলে। তিনি ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাস চালক ছিলেন।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় বাসের ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যান আরমান। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের গুমরে মরা কান্নায় পুরো গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরমানের মৃত্যুতে তার সাজানো সংসারে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। তিনি বড় মেয়ে আমেনা খাতুন (শহীদ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী) এবং ৫ বছর বয়সী ছোট মেয়ে তায়েবা খাতুনকে রেখে গেছেন। এছাড়া তার স্ত্রী লাবনী খাতুন বর্তমানে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে পাথর হয়ে গেছেন লাবনী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত স্বামীকে নিয়ে স্ত্রী বলছিলেন, ঈদের দুই দিন আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বলেছিল কাজে যাচ্ছি, ঈদের সাত দিন পর ফিরব। কিন্তু ফিরল তো লাশ হয়ে! এখন আমার সন্তানদের কে দেখবে? আমার তো সব শেষ হয়ে গেল।এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান। তার ভাষ্য, আরমানের এই অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি বিধি মোতাবেক তাদের আরও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।
গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ঘাটে বাসটি তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চালকসহ আরও অনেকের প্রাণহানি ঘটে।

