লোডশেডিং
ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টর্চের আলোয় চিকিৎসা

ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টর্চের আলোয় চলছে চিকিৎসা
পাবনার ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোডশেডিংয়ের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে রাতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
জরুরি সময়ে টর্চ ও মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো জ্বালিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
লোডশেডিংয়ের সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
রোগী ও স্বজনরা জানান, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী সেবা নেন। টিকিট সংগ্রহ থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে গরম ও অন্ধকারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের আরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তাদের ভাষ্য, রাতে ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রায়ই ৮০ থেকে ১০০ রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে শয্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী থাকায় এমনিতেই চাপ থাকে। এর মধ্যে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, লোডশেডিংয়ের সময় গরমে রোগীদের যেমন কষ্ট হয়, তেমনি চিকিৎসাসেবা দিতেও তাদের হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো জ্বালিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতালে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকার পাশাপাশি প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। জনবল সংকটের মধ্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে এমনিতেই হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর লোডশেডিং বাড়তি বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও নার্সদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিষয়টি আরও বেশি সমস্যার তৈরি করে। হাসপাতালে একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা করা গেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সুবিধা হবে।’



