প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা পেলেন সেই রমণীকান্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা, সনদ ও নগদ দুই লাখ টাকার চেক নিচ্ছেন রমণীকান্ত বেপারী
৫৫ বছর ধরে বিনা বেতনে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করে আসা বরিশালের আগৈলঝাড়ার রমণীকান্ত বেপারী অবশেষে পেলেন তার শিক্ষা-সেবার স্বীকৃতি।
দৈনিক আগামীর সময়ে তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা, সনদ ও নগদ দুই লাখ টাকার চেক পেয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার আব্দুল গণি রোডের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের আগৈলঝাড়ার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের পাঠশালার শিক্ষক রমণীকান্ত বেপারীর গলায় মেডেল পরিয়ে দেন।
একই সঙ্গে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা সনদ ও দুই লাখ টাকার চেক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নাতি তরুণ বেপারী।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক আগামীর সময়-এ ‘ধন্যবাদ’ সিরিজে রমণীকান্ত বেপারীকে নিয়ে ‘বিনা বেতনে রমণীর পাঠদানের ৫৫ বছর’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদারের নজরে আসে।
পরে ইউএনও নিরুপম মজুমদার রাংতা গ্রামের পাঠশালায় সরেজমিনে রমণীকান্ত বেপারীর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি পাঠশালার কার্যক্রম ও শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রত্যক্ষ করেন এবং শিক্ষক রমণীকান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তার হাতে উপহার সামগ্রীও তুলে দেন ইউএনও।
সোমবার সম্মাননা পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত রমণীকান্ত বেপারী বললেন, আমি ৫৫ বছর ধরে বিনা বেতনে আমার পাঠশালার মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করে আসছি। কোনোদিন ভাবিনি, একটি সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা ও দুই লাখ টাকার চেক পাব। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি বললেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদারের প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতিও কৃতজ্ঞ।
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেছেন, দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকায় রমণীকান্ত বেপারীকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হলে বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার স্যারের নির্দেশে রমণীকান্তের পাঠশালায় সরেজমিন যাই। সেখানে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেখে খুবই ভালো লাগে। শিক্ষক রমণীকান্ত বেপারী একজন ভালো মানুষ। তার মতো মানুষ সমাজে আছেন বলেই আমাদের দেশটা ভালো আছে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শিশুদের শিক্ষাদানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কারে রমণীকান্ত বেপারীর পাশাপাশি আনন্দিত স্থানীয়রাও। তার এই সম্মাননা সমাজে নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষা ও মানবসেবায় নিয়োজিত অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




