ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ক্রাশ প্রোগ্রাম

ছবি: আগামীর সময়
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম নগরীতে মাসব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের সামনে থেকে কর্মসূচি শুরু করা হয়। এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চসিকের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো ২ নম্বর জালালাবাদ, ৩ নম্বর পাঁচলাইশ, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া, ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া, ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ও ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর।
এসব এলাকায় বাড়তি কর্মী দিয়ে এডিসের প্রজননস্থল খুঁজে ধ্বংস, লার্ভা নিধন ও মশক নিধনে ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। কার্যক্রম তদারকিতে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
এ সময় চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, মো. শরফুল ইসলাম মাহি প্রমুখ ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন জানান, এডিস মশার লার্ভা নিধন করতে গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে পরিবেশবান্ধব জৈব কীটনাশক হিসেবে বিটিআই ব্যবহার করছে। ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগী কমেছে। গত বছর এ সময়ে রোগী ছিল ৮০০ এর বেশি। এবার তা প্রায় ৫৫০ থেকে ৫৮০ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু হলেও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু হয়নি।
মশক নিয়ন্ত্রণে শতাধিক কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পাশাপাশি নগরীর অন্য এলাকাতেও নিয়মিত কার্যক্রম চলবে। নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা ও জমে থাকা পানিতে লার্ভা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি শুরু হলেও গত দুই থেকে তিন মাস ধরেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে চসিক। আগামী এক মাস এ ক্রাশ প্রোগ্রাম চলবে। একই সঙ্গে নগরীর অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।







