জাপানি গাড়ি কিনতে দেড় লাখ টাকা বাড়তি লাগবে

সংগৃহীত ছবি
মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকের কাছে জনপ্রিয় ১৫০০ সিসির রিকন্ডিশন্ড বা একবার ব্যবহৃত গাড়ির দাম দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের শুল্কহার কার্যকর হলে জাপানি টয়োটা ব্র্যান্ডের এক্সিও, অ্যালিয়ন, প্রিমিও ব্র্যান্ডের গাড়ির দাম বাড়বে।
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এই শ্রেণির গাড়ি আমদানির শুল্কহার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে। শুল্কহার না কমে আগের বছরের চেয়ে ২৩.৬২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
প্রস্তাবের কপি পেয়ে হতাশ বারভিডার সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, রিকন্ডিশন্ড ১৫০০ সিসির একটি অ্যালিয়ন, প্রিমিও গাড়ি কিনতে গ্রাহককে এক লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হবে। আমরা চেয়েছিলাম সম্পূরক শুল্ক কমানোর, উল্টো সিসির শ্রেণি ভাগ করে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
বাজারে এখন টয়োটা ব্র্যান্ডের এক্সিও গাড়ির দাম সর্বনিম্ন ২৫ লাখ টাকা। অ্যালিয়ন গাড়ির দাম ৩৫ লাখ টাকা এবং প্রিমিও ৪০ লাখ টাকা। দুই বছর ধরেই গাড়ির বিক্রিতে ধস নেমেছে। শোরুমে গাড়ি বিক্রি করতে না পেরে ব্যবসায়ীরা হা-হুতাশ করছেন। এমন সময়েই শুল্ক আরোপের খবর এলো।
শুল্কহার বাড়ানোর পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি আমদানিতেই সরকার বেশি প্রণোদনা দিচ্ছে। গাড়ি ক্রেতাদের সেদিকেই উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার দেশীয় গাড়ি সংযোজন ও ইলেকট্রিক গাড়িশিল্পকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ির মূল কর কাঠামোতে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বয়স অনুযায়ী অবমূল্যায়ন বা অবচয় সুবিধার স্ল্যাবগুলো কঠোর রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতায় আরও পিছিয়ে পড়বেন বলে মনে করছেন রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা।
এবারের বাজেটে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ির সিবিইউ (সম্পূর্ণ তৈরি গাড়ি) এবং দেশে এনে সংযোজিত সিকেডি—দুই ধরনের গাড়িতেই শুল্কহার ন্যূনতম ৬৪.২৫ শতাংশ। ২৫ হাজার ডলারের বেশি দামি গাড়ি আমদানি করলে এই শুল্কহার ধাপে ধাপে বাড়বে। এ ছাড়া ইভি গাড়ির ক্ষেত্রে সরকারের রেজিস্ট্রেশন ট্যাক্সও তুলে দেওয়া হয়েছে। এর তুলনায় রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির শুল্ক (১৫৯ শতাংশ) আগের মতোই অনেক বেশি রয়ে গেছে।







