কোণঠাসা দীপেন আরও বেকায়দায়!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যেন জীবনের উল্টোপিঠই দেখছেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী ও রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। মাত্র আড়াই মাস আগের দাপুটে মন্ত্রী। ১ জুন পদ হারালেন ‘অজানা এক কারণে’। যদিও পদত্যাগপত্রে অজুহাত ছিল অসুস্থতার। তারপর থেকে তার কাছ থেকে দৃশ্যত গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীদের বড় অংশ। এরই মধ্যে গতকাল ঘোষিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৫ নেতাকর্মীর মধ্যে তার একজন অনুসারীও নেই। অথচ তিনি মন্ত্রী থাকাকালে পরিষদ ঘোষিত হলে পুরো পরিষদই হতো তার ইচ্ছা অনুযায়ী। পুরো পরিষদের সব সদস্যই জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদারের অনুসারী হিসেবেই পরিচিত।
দীপেন দেওয়ানের অনুসারী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলছেন, ‘যদি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ ওয়াদুদ ভূঁইয়ার পরামর্শে হয়, যদি বান্দরবান জেলা পরিষদ জেরীর পরামর্শে হয়, তবে রাঙামাটি জেলা পরিষদ গঠনে কেন রাঙামাটির সংসদ সদস্যকে উপেক্ষা করে গঠন করা হলো। বিষয়টা দৃষ্টিকটু ও বৈষম্যমূলক। যার ফলে রাঙামাটি বিএনপি আগামী দিনের রাজনীতি সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। আমরা এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গঠিত পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন বলছেন, ‘যাদের নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ও পরীক্ষিত। এখানে কাউকে বাদ দেওয়া বা কাউকে বঞ্চিত করার কিছু নেই। আগে-পরে প্রত্যেককেই মূল্যায়ন করা হবে।’
পুনর্গঠিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু বলছেন, ‘দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং পরিশ্রমীদের নিয়েই জেলা পরিষদ গঠিত হয়েছে। একটা বড় দলের সবাইকে একসাথে ধারণ করা কঠিন। তবুও প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের ত্যাগ মাথায় রেখে আমাদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন। আমরা চেষ্টা করব তার আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে।’
তবে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এই প্রসঙ্গে বললেন, ‘জেলা পরিষদ গঠনে আমার কোনো ভূমিকা নেই। যাদের বেছে নেওয়া হয়েছে তারা কাদের সুপারিশে হয়েছে বা কাদের পাঠানো তালিকার মাধ্যমে হয়েছে আমি জানি না। দু-এক দিন আগে পার্বত্য সচিব আমাকে একটি তালিকা দিতে বলেছিলেন। আমি বৃহস্পতিবার সেটি দিয়েছি। কিন্তু তার আগেই কীভাবে পরিষদ গঠিত হয়ে গেল আমি জানি না, আমার দেওয়া তালিকার কেউ নাই এখানে।’
এটা তো সত্য, রাঙামাটি বিএনপিতে গ্রুপিং আছে। যেহেতু গ্রুপিং আছে, সেহেতু সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে পরিষদ গঠিত হলে দলের জন্যও ভালো হতো- মন্তব্য করে এই সংসদ সদস্য বললেন, ৫ আগস্টের আগে কোন নেতার মোবাইল বন্ধ থাকত, কোন নেতার সামনে থেকে কর্মীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছিল, কোন নেতার কী ভূমিকা আমি বলতে চাই না।’
তবে অবশ্যই সংসদ সদস্য হিসেবে আমার মতামতটা নেওয়া দরকার ছিল, বলেন তিনি।






