এক ম্যুরালে জীবন্ত ৩ ইতিহাস

চট্টগ্রামের লালদীঘির মোড়। সময়ের পরিক্রমায় এ চত্বর শুধু সড়ক সংযোগস্থল নয়, বরং হয়ে উঠেছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। প্রজন্মের বদলের সঙ্গে বদলে যায় ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কখনো হারিয়ে যায়, কখনোবা ঘটানো হয় ইচ্ছাকৃত বিকৃতি। প্রকৃতপক্ষে শিল্পের মাধ্যমেই ধরে রাখা যায় হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস। কারুকার্যের শিল্পই যেন ইতিহাসকে একমুহূর্তের মধ্যে ‘টাইম মেশিন’-এর মতো মনে করিয়ে দিতে পারে তার হারিয়ে যাওয়া গৌরবের কথা।
পোড়ামাটির কারুকার্যে, রঙতুলির আঁচড় কিংবা ভাস্কর্যে একবার যে ইতিহাস আঁকা হয়ে যায়, তা সহজে মুছে ফেলা যায় না। সেই ঐতিহ্য আর সংগ্রামের চেতনা থেকেই চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির মোড়ে নির্মিত হয়েছে নতুন ম্যুরাল ‘আবদুল জব্বারের চত্বর’। চত্বরটির নকশা করেন স্থপতি আয়েশা রুবাইয়াৎ আশা। ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ।
ডিজাইনার জানান, লাইটিং আর ল্যান্ডস্কেপের কাজ বাকি। এটি শেষ হলে অদম্য বাংলাদেশের চিত্রই ফুটে উঠবে এ শিল্পকর্মে। গত ২২ এপ্রিল জব্বারের বলীখেলার দুদিন আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘বলীখেলা, বীর চট্টগ্রামের সংগ্রামী ঐতিহ্য আর ন্যায়বিচারের চেতনা— আমাদের এ গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তুলতেই আমাদের এ ম্যুরাল।’
এ আয়োজনকে আরও স্মরণীয় করে তুলতেই লালদীঘির মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ত্রিভুজাকৃতির টেরাকোটার ম্যুরাল। তিনটি ভিন্ন প্রতিকৃতিতে এখানে তুলে ধরা হয়েছে চট্টগ্রামের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস।
ম্যুরালের প্রথম অংশে রয়েছে ‘জব্বারের বলীখেলা’র প্রতিকৃতি। সেখানে দুই বলীর লড়াই এবং চারপাশে উৎসুক দর্শকের উপস্থিতি যেন শতবর্ষের ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে তুলেছে। এটি শুধু শক্তি ও সাহসের প্রতীক নয়, বরং চট্টগ্রামের লোকসংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দ্বিতীয় অংশে স্থান পেয়েছে হাতুড়ির প্রতিকৃতি, যা ন্যায়বিচারের প্রতীক। লালদীঘি এলাকার আদালতপাড়া ও বিচার বিভাগের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আইনের শাসন ও সুবিচারের চেতনাকে ধারণ করে।
তৃতীয় অংশে দুই হাতে শিকল ভাঙার দৃশ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সংগ্রামী ইতিহাস। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে লালদীঘির ময়দান ছিল প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু। শিকল ভাঙার প্রতীক মনে করিয়ে দেয় সেই সংগ্রামের কথা।






