কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, ওয়াসার গাড়িচালক ও স্ত্রীর কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম ওয়াসার গাড়িচালক পদে কর্মরত ছিলেন তাজুল ইসলাম। চট্টগ্রাম শহরে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা খরচ করে স্ত্রীর নামে বানান পাঁচতলা বাড়ি। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে নগদ মেলে প্রায় ২২ লাখ টাকা। নিম্ন বেতনের একজন কর্মচারীর এত সম্পদ নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বৈধ দেখাতে নিতান্ত গৃহিণী স্ত্রীকে সাজান মুরগি খামারি। তবুও শেষরফা হয়নি। দুদকের মামলায় আদালত উভয়কে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান ওয়াসার বরখাস্ত হওয়া গাড়িচালক তাজুল ও তার স্ত্রী খাইরুন নেসার বিরুদ্ধে এ রায় দেন।
এ সময় আসামিরা আদালতে ছিলেন বলে জানালেন দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন।
তাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৯ সালে তিনি গাড়িচালকের সহকারী পদে ওয়াসায় যোগ দেন। পরে গাড়িচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। দুর্নীতির মামলা হওয়ার পর ২০২৩ সালে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তাজুল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বায়েজিদ বোস্তামি থানা কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
২০২২ সালের ৫ মার্চ তাজুল ইসলাম ও খাইরুন নেসার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদক চট্টগ্রামের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে চট্টগ্রাম নগরীর রউফাবাদ এলাকায় তাজুল তার স্ত্রীর নামে ৩ শতক জায়গা কেনেন। পরে সেখানে পাঁচতলা বাড়ি বানানো হয়। ২০২২ সালে দুদক তাজুলকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেয়। বিবরণীতে তিনি অর্ধেক বাড়ি বানানোর খরচ দেখান ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। কিন্তু দুদক গণপূর্ত বিভাগের তিন প্রকৌশলীর মাধ্যমে তদন্ত করে বাড়ির অর্ধেকের নির্মাণব্যয় নির্ধারণ করে ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ হিসেবে পুরো বাড়ি নির্মাণে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা।
এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংকে পাওয়া যায় নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ হিসেবে তাজুলের স্ত্রীর মোট ৫৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ পায় দুদক। অথচ গৃহিণী খাইরুনের বৈধ কোনো আয়ের উৎস খুঁজে পায়নি দুদক। তবে তাজুল তার স্ত্রীকে পোলট্রি খামারি হিসেবে বিবরণীতে উল্লেখ করলেও এর কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
পিপি মোকাররম জানালেন, দুদকের মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। রায়ের পর সাজামূলে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




