বিশ্বকাপের আনন্দে তার ‘তিন কন্যা’

পিক্সি, পিক্সেল আর পটারের সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল আলীম। ছবি: আগামীর সময়
অধ্যাপক আবদুল আলীম পৌঁছেছেন প্রায় প্রবীণের কাতারে। ছড়াকার আলেক্স আলীম নামে যার ব্যাপক পরিচিতি। বয়স যা-ই হোক, মনের খোরাক আর শখের চর্চায় তিনি চিরতরুণ চিরসবুজ চিরনবীন। প্রকৃতি আর প্রাণীর সঙ্গে আলীমের বন্ধন আশৈশবের। ফেসবুকে নিয়মিত উঠে আসে পোষা বিড়ালের সঙ্গে তার ঘরবসতির নানা রসরঙ্গ।
পিক্সি, পিক্সেল আর পটার। এরকম অদ্ভুত তিনটি নাম তিন বিড়ালের। এদের লালনপালন করছেন কন্যাস্নেহে। আলীমের যে কোনো উদযাপনে এরা থাকেই। বিশ্ব জুড়ে এখন চলছে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা। জগতের এই আনন্দযজ্ঞে ‘তিন কন্যাকেও’ শামিল করেছেন তিনি। তাদের কিনে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের জার্সি। তার কিনে দেওয়া ফুটবল নিয়ে দিনমান সারা ঘর মাতিয়ে রাখে পিক্সিরা। আর আলীম রেফারির ভূমিকা নিয়ে উপভোগ করেন অবুঝ প্রাণীদের বুঝদার আচরণ।
নির্মল আনন্দের অনুষঙ্গ হিসেবে বিড়ালের গায়ে জার্সি আর পায়ে ফুটবল দিয়েছেন বলে জানালেন আলেক্স আলীম। তিনি বললেন, ‘বিশ্বকাপকে বলা হয় দ্য গ্রেটেস্ট শো অব দ্য আর্থ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আনন্দ আয়োজন। আমি সবসময় ছোট বিষয়কে বড় করে উদযাপনের চেষ্টা করি। এ ক্ষেত্রে বড় বিষয়কে ছোট করে উদযাপন করছি বলা যায়। কোথায় বিশ্বকাপ আর কোথায় আমার ছোট্ট তিনটি বিড়াল! যাদের আমি সন্তানস্নেহে লালন করছি।’
আলীমের দুই ছেলে মার্চেন্ডাইজার ইরাবান আলীম অতুল ও কম্পিউটার প্রকৌশলী ঋতবান আলীম গহন। বাবার মতো তারাও প্রাণীর প্রতি অসম্ভব সংবেদনশীল। করোনার সময় ঢাকার উত্তরায় রাস্তায় ক্ষুধায় কাতরাচ্ছিল দুই বিড়াল ছানা। ঋতবান তাদের বাসায় নিয়ে লালনপালন শুরু করেন। নাম দেন পিক্সি ও পিক্সেল। ২০২৪ সালে স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমানোর সময় বিড়ালগুলোকে চট্টগ্রামে বাবার জিম্মায় দিয়ে যান।
‘ঋতবান আমাকে বলেছিল, বাবা এ দুইটা আমার দত্তক নেওয়া মেয়ে। তোমাকে দিয়ে গেলাম। অযত্ন হলে আমি তাদের স্কটল্যান্ডে নিয়ে যাব। প্রতিদিন বিড়ালগুলোকে একবার দেখার জন্য ভিডিওকল দেয়।’— বলেন আলেক্স আলীম।
পিক্সি ও পিক্সেলকে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউড়ির নিজ বাড়িতে এনে রাখেন আলীম। তখন বাসায় একটি পার্সিয়ান পুরুষ বিড়াল ছিল। নাম গলিয়ক। শহরের পাথরঘাটায় হরিজনপাড়ার মুখে ডাস্টবিনের পাশে বিড়াল ছানাটিকে পেয়ে বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন ইরাবান। বাংলা পিক্সি ও পার্সিয়ান গলিয়কের ঔরসে জন্ম নেয় কন্যা পটার।
গলিয়কের মৃত্যুর পর পিক্সি ও তার মেয়ে পটার এবং পিক্সেলকে নিয়েই এখন আলীমের ঘরবসতি। অখণ্ড অবসর কেটে যায় তাদের নিয়েই। এদের মধ্যে পিক্সেল ও পটারের গায়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার জার্সি। পিক্সি পরেছে ব্রাজিলের। নগরীর মেহেদিবাগের একটি পেটশপ থেকে তিনি জার্সি কিনেন।
আলীম নিজে আর্জেন্টিনার দারুণ ভক্ত হলেও পোষা বিড়ালদের ওপর তিনি তার পছন্দ চাপিয়ে দেননি। বললেন, ‘তিনজনকেই দুবার করে দুই ধরনের জার্সি আমি পরিয়ে দেখেছি। যে যেটাতে স্বস্ত্বিবোধ করেছে, তাকে সেটাই দিয়েছি। প্রথমে অবশ্য পিক্সি ও পটারকে জার্সি পরিয়েছিলাম। এতে পিক্সেল খুব অভিমান করে। আমার কাছে এসে ঘুরঘুর করতে থাকে। একপর্যায়ে কোলে চড়ে বসে। আমি হাতে জার্সি নেওয়ার পর পিক্সেল নিজেই পরার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়।’
বিড়াল তিনটিকে কিনে দিয়েছেন চারটি বল। আলীম বললেন, ‘তিনজন মিলে কখনো পা দিয়ে, কখনো লেজ নাড়িয়ে, কখনো দুই হাতে বল ছুঁড়ে খেলাধুলা করে। আমি রেফারি থাকি। তাদের খেলা উপভোগ করি। ছবি তুলে, ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড দিই।’
২০২৩ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব পদ থেকে অবসরে যান অর্থনীতির অধ্যাপক আবদুল আলীম।




