চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ১৫৫ হটস্পট, ড. ইউনূসের বাড়িতেও লার্ভা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনে মিলেছে এডিস মশার প্রজননস্থল। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও স্বাস্থ্য বিভাগের পৃথক জরিপে নগরের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত তার বাড়ি ‘নিরিবিলি’র আঙিনাসহ মোট ১৫৫টি স্থান এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননক্ষেত্র হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এই হটস্পটের তালিকায় আছে নগরের নামিদামি বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন ও আবাসিক এলাকা।
চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ পরিদর্শকদের তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পাঁচলাইশে অবস্থিত সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, কাতালগঞ্জের পরিত্যক্ত ভবন, এগারো ডাইমের বিল্ডিং, টুপিওয়ালা পাড়া, মীর নাসির গলি, মুন্সিপুকুর পাড় এবং চকবাজার কাঁচাবাজারের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসার প্রহরী মো. সায়েম খানের সঙ্গে। আগামীর সময়কে তিনি বলেছেন, ‘স্যার প্রধান উপদেষ্টা থাকার সময় এখানে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হতো। এখন আর সেভাবে ওষুধ ছিটাতে আসেন না। বৃষ্টি হলেই আঙিনায় পানি জমে যায়। মূলত এ কারণেই জায়গাটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।’
চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ‘বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের কীটতত্ত্ববিদদের জরিপ অনুযায়ী নগরের ৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা সম্ভাব্য ১৫৫টি প্রজননক্ষেত্র বাছাই করে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ ও প্রজননস্থল ধ্বংস করেছি।’
ব্যক্তিগত সচেতনতা উত্তরণের অন্যতম পথ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত রোগীর বাসস্থান চিহ্নিত করে আঙিনা ও আশপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের কাজ চলছে। আমাদের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশাকে গৃহপালিত বা ভিআইপি মশা বলা হয়, কারণ এটি ডমেস্টিক পর্যায়ে বেশি থাকে। দিনের বেলা বা রাতে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিন দিনের বেশি বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।’
অন্য ওয়ার্ডের মধ্যে ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নয়াহাট-বাজার, কুয়াইশ রোড, বকশিনগর, চালিতাতলী (নির্মাণাধীন ভবন ও বাজার), চালিতাতলী শীলবাড়ি মন্দির, পাঁচলাইশ উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর আবাসিক, গুলবাগ আবাসিক, আহমদীয়া হাউজিং সোসাইটি, পশ্চিম শহীদনগর, মধ্যম শহীদ নগর (নির্মাণাধীন আবদুস ছত্তার টাওয়ার), অক্সিজেন আবাসিক এলাকা, পাঠানপাড়া এবং আতুরার ডিপো (জাহানপুর ও হাসেমপাড়া বাজার)।
২ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে প্রজননস্থলের তালিকায় আছে কে বি গ্রামার স্কুল, বালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাইনিং জুয়েল স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, অন্ধ হুজুরের মাজার ও আশপাশের ডোবা, আগুন ফকিরের মাজার, খন্দকীয়া হাট, চন্দননগর বাজার, শেরশাহসংলগ্ন বাজার-কলোনি ও হাউজিং, অক্সিজেন মোড়ের পাশের আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট গেটের বিপরীতের দোকানগুলা, বালুছড়া আবাসিকের শুরুর দিকের নির্মাণাধীন ভবন, শীতল ঝরনা আবাসিক, জেলা পরিষদ আবাসিক, ওয়াপদা গলি কলোনি, আলপনা কম্পিউটারের উত্তর পাশ, খাজা টাওয়ার এলাকা, কুঞ্জছায়া আবাসিক, ডেবারপাড় এলাকা, চন্দননগর আবাসিক, শ্যামল ছায়া আবাসিক, বিহারি কলোনি, সড়ক ও জনপদ কোয়ার্টার, জামশেদ শাহ রোডের আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা এবং সেনা কল্যাণ মিলের সামনের রাস্তার ফুলের টবকে মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আছে বিএড কলেজ, বাকলিয়া স্কুল (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক), মৌসুমী আবাসিক এলাকা, কালাম কলোনি (আব্দুল লতিফ রোড), চান মিয়া মুন্সির লেইন, তাহের কলোনি, শান্তিনগর এলাকা, মিয়া বাপের মসজিদসংলগ্ন এলাকা, মদিনা মসজিদ লেইনের নির্মাণাধীন ভবন এবং সাবেক কাউন্সিলের বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকা।
নগরীর ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে চিহ্নিত প্রজননস্থলের তালিকায় আছে বড় কালি বাড়ি (ঈশান মহাজন রোড), গোলার বাড়ি (সিটি গেটসংলগ্ন), মনসুরাবাদ, সাগরিকা শিল্প এলাকা, কাস্টমস একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল, স্টেডিয়ামসংলগ্ন খেজুরতলা জেলেপাড়া, বিশ্বাস পাড়া, আমানত উল্লাহ শাহ পাড়া, নাজির বাড়ি, মুন্সি বাড়ি, মুকিম তালুকদার বাড়ি, সিডিএ আবাসিকের নালা, প্রশান্তি আবাসিকের নালাগুলো, আগ্রাপাড়া (ভিক্টোরিয়া জুট মিল), কুতুব বাড়ি, জাকের উল্লাহ সওদাগরের বাড়ি, বশির মোহাম্মদ বাড়ি, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, আচার্য্য পাড়া-জলিল মিস্ত্রি বাড়ি, তমিজুর রহমানের বাড়ি (ওয়ার্ড অফিসসংলগ্ন), পণ্ডিত বাড়ি, ছোট কালি বাড়ি, জ্বালাকুমারী মন্দির, কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, চান মিয়া ডাক্তারের বাড়ি, উত্তর সরাইপাড়া (অলংকার), কর্নেল হাটের আশরাফ আলী চৌধুরী বাড়ি, সিরাজ উদ্দিনের বাড়ি ও নুর মোহাম্মদ বাড়ি, পেয়ারি মোহন সেনের বাড়ি, শাহের পাড়া এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তিলোত্তমা, এমপি সাহেবের ড্রেন, ইসলাম কলোনি ও মনোহরখালী এলাকা।







