চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় পর্দায় মেসির বিদায়ী ম্যাচ

মেসির বিদায়ী ম্যাচ দেখতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন ফুটবলপ্রেমীরা। ছবি: আগামীর সময়
ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন ফুটবলপ্রেমীরা। সবার দৃষ্টি জায়ান্ট স্ক্রিনে। অপেক্ষা সেই মানুষটির জন্য—যার পায়ের জাদুতে বছরের পর বছর মুগ্ধ হয়েছে ফুটবলবিশ্ব।
আজ সেই জাদুকরের বিদায়ের দিন। হাজারো স্মৃতি। শেষ বিশ্বকাপ না পাওয়ার বেদনা। তবুও হাসলেন। জিতলেন। ভক্তের চোখের জলে ১০ নং জার্সি তুলে রাখলেন।
বুধবার ভোর ৫টায় মেসির বিদায়ী ম্যাচ দেখার আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিই ছিল লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। প্রীতি ম্যাচ হলেও চবির দর্শকদের কাছে সেটি যেন ছিল এক আবেগের বিদায়বেলা। প্রিয় ‘১০ নম্বর’কে শেষবারের মতো মাঠে দেখতে ভোররাতেই শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে কেউ নীরবে তাকিয়ে ছিলেন পর্দায়, কেউবা প্রিয় তারকার স্মৃতিচারণে ডুবে ছিলেন। খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাস আর আবেগে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
চবির শহীদ মিনারেও যেন মুহূর্তের জন্য থমকে যায় সময়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী অঙ্কন ধর বললেন, ‘মেসিকে শুধু একজন ফুটবলার হিসেবে দেখিনি, তার খেলা দেখেই আমার বেড়ে ওঠা। আজ তাকে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখে মনে হচ্ছে, আমার শৈশব-কৈশোরের একটা অধ্যায়ও যেন শেষ হয়ে গেল। মেসি আমাদের বাকি জীবনের গল্প হয়ে রইলেন।'
বুয়েনস এইরেসের বিখ্যাত এস্তাদিও মনুমেন্তালে যখন মেসি শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে দাঁড়ালেন, হাজারো দর্শকের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন ফুটবলের এই মহাতারকা। আর হাজার মাইল দূরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারেও একই সময়ে তৈরি হলো আরেকটি ছোট্ট ‘বিদায়ের মঞ্চ’।
বাঁশির শব্দে শুধু একটি খেলা শেষ হয়নি। শেষ হয়েছে এক কিংবদন্তির ছুটে চলা। কিন্তু কোটি ভক্তের হৃদয় থেকে তার বিদায় কখনো নয়।




