নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বতস্ফূর্ত ভোট চলছে চট্টগ্রাম চেম্বারে

ছবি: আগামীর সময়
১২ বছর পর চট্টগ্রাম চেম্বারে নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দিতে এসেছেন সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি। দেশের বাইরে ছিলেন তিনি। এসেছেন শুধু ভোট দিতে। আশরাফ উদ্দিন চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা করেন। জেটিতে পণ্য উঠানামার বার্থ অপারেটর হিসেবে ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতা তার। আজ শবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভোট দিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয়ভাবেই ভোটের সংস্কৃতি ফিরেছে। চট্টগ্রাম চেম্বারও আশা করছি তার ঐতিহ্য, বনেদি ভাব এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনবে।
পৌণে ১২টায় ভোট দিয়ে বের হচ্ছিলেন দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপ বিএসআরএমর কর্ণধার আলী হোসেন আকবর আলী। হাঁটতে হাঁটতে অনেকের সঙ্গে সেলফি তুলছিলেন। আর বলছিলেন, ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের সুযোগ আবারও ফিরেছে। এটা মাইলফলক।
পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক আকতার হোসেন ভোট দিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তার কণ্ঠেও শোনা গেল যোগ্যতা অনুযায়ী চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের।
প্যাসফিক জিন্স গ্রুপের কর্ণধার সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর এর আগেও চট্টগ্রাম চেম্বারের দায়িত্বে ছিলেন। নীতির সঙ্গে আপস করতে না পেরে তিনি তখন পদত্যাগ করেছিলেন। তার ভাষ্য, ব্যবসায়ীদের এই মিলনমেলা দেখে আজ সত্যিই অভূতপূর্ব লাগছে। আশা করছি এভাবেই চট্টগ্রাম চেম্বার এগিয়ে যাবে।
আজ শনিবার সকাল ৯টায় বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনের ভোটগ্রহন শুরু হয়। বেলা ১১টার পর থেকে ভিড় বাড়তে থাকে, সাড়ে ১২টা নাগাদ তৃণমুলের ব্যবসায়ীদের ভিড় লেগে যায় আগ্রাবাদে দেশের একমাত্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের প্রথমতলা। ভোটাররা বুথে প্রবেশ করতে না পারলেও হৈ চৈ বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। নারী উদ্যোক্তা যেমন এসেছেন তেমনি এসেছেন ৮০ বছর ছুঁইছুঁই ভোটার। ব্যবসায়ীরা পরস্পর সেলফি ছবি তোলা, আড্ডায় মেতে ছিলেন। আয়োজন ছিল চায়ের। ট্রেড সেন্টারের বাইরে প্রত্যেকে বুথ খুলে সাদা টিশার্ট পরা স্বেচ্চাসেবকরা ভোটারদের ক্রমিক নম্বর দিয়ে সহযোগিতা করছিলেন।
ভেতরে গিয়ে প্রথম তলায় নিয়ন্ত্রন কক্ষে কথা হয় চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগমের সাথে। তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি। ভোটাররা স্বতস্ফূর্ত, নিরাপদে নিজের ভোট দিতে পারছেন। ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনে অর্ডিনারি শ্রেণীতে ১২ শতাংশ এবং এসোসিয়েট শ্রেণিতে ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে। জানালেন, এবার ওএমআর পদ্ধতিতে প্রথম নির্বাচন হচ্ছে ফলে ভোট শেষ হওয়ার দুই ঘন্টার মধ্যে ফল ঘোষনা দিতে পারবো।
চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে ২৪ পরিচালক পদের মধ্যে টাউন ও ট্রেড গ্রুপের ৬ পরিচালক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। তাদের সবাই ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের।
নির্বাচনে অর্ডিনারি গ্রুপে ৪ হাজার জন, অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ২ হাজার ৭৬৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অর্ডিনারি গ্রুপের ৩৮ পরিচালক প্রার্থী থেকে ১২ জন এবং অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ১৫ পরিচালক প্রার্থী থেকে ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচনে এবার দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল এবং স্বতন্ত্র পদে অনেক ব্যবসায়ী লড়ছেন। দুটি প্যানেলের একটি এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম আরেকটি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। নির্বাচনের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন ডেকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে এস এম নুরুল হক এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। ডাক দেন ভোট বর্জনের।
নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন জামাল উদ্দিন বাবলু বলছেন, বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। দুই প্যানেলের বাইরে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছি। ভালো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যে যার ভোট দিতে পারছেন এটাই আমি চেয়েছিলাম।
বিপুল সংখ্যক ভোটার, স্বতস্ফূর্ত, অংশগ্রহনমুলক উপস্থিতিই প্রমান করে তৃণমুলের ভোটাররা যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চায়-বললেন, ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের আমিরুল হক। তার ভাষ্য, আমরা সবসময়ই চেয়েছিলাম ব্যবসায়ীরাই প্রতিনিধি নির্বাচন করুক। প্রশাসক দিয়ে চেম্বারের কার্যক্রম চলে না।






