জানাজায় রাজনৈতিক স্লোগান কেন, প্রশ্ন মীর হেলালের

ছবি: আগামীর সময়
বর্ষীয়ান রাজনীতিক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজায় মিছিল-স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এর মধ্য দিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানানোর জন্য সরকারের দেওয়া সুযোগের ‘অপব্যবহার’ করা হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপে প্রতিমন্ত্রী এমন মত দেন। বুধবার (১৩ মে) সকালে একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সেনানী ৮৩ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জীবনাবসান হয়। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য মোশাররফ পরে ছয়বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। দুই দফায় মন্ত্রী ছিলেন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। স্লোগান দিতে দিতে লাশবাহী গাড়ির পেছন পেছন বের হয়ে যান সবাই। জানাজায় স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। জানাজার অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদে রাতে এনসিপি চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থানের বিষয়টি উঠে এলো মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ভাষ্যে, ‘উনি (মোশাররফ হোসেন) একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ওনাকে যে সম্মানটা জানানো দরকার, ওনার প্রাপ্য সম্মানটা ওনাকে দেওয়া হয়েছে। সরকার সেই সুযোগটা দিয়েছে। কিন্তু এটাকে কিছু লোক পলিটিসাইজ করেছে। খামোখা মিছিল করে, স্লোগান দিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে।’
জানাজায় রাজনৈতিক স্লোগান কেন, এ প্রশ্ন তুলে বিএনপির এই নেতা বললেন, ‘ওনাকে যদি তারা ভালোবাসতেন, তাহলে এটা করতেন না। একটা সামাজিক আয়োজন কিংবা একজন মানুষের অন্তিম যাত্রাকে পলিটিসাইজ করার তো কোনো দরকার ছিল না। এটার মধ্য দিয়ে ওনাকে অসম্মান করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের যে চেষ্টা আমরা করছি, সেটাকে নস্যাৎ করে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’
‘গতকালের আগেরদিন তো কোনো মিছিল হয়নি, আজ তো কোনো মিছিল হচ্ছে না। তাহলে সরকার যে একটা সুযোগ দিল, সেই সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ফেলল।’
সরকার ও প্রশাসন যথেষ্ঠ ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধৈর্য্য ধারণ করেছে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানের বিষয় বিবেচনা করে। কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠন সেই সুযোগের সঠিক ব্যবহার করেনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির যদি পরিবর্তন করতে হয়, আমাদের মনস্ত্বাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রয়োজন আগে। সব জায়গায় রাজনীতিকে বিক্রি না করে কিছু কিছু জায়গায় সম্মানের স্পেসটা রাখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।’
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে আরেক দফা জানাজা শেষে মোশাররফ হোসেনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।





