৪ লাখ ১১ হাজার চামড়া সংগ্রহ চট্টগ্রামে

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে এবার কোরবানি পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে গরুর চামড়া প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। প্রত্যাশা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। সংরক্ষণের অভাবে কোনো চামড়া নষ্ট হয়নি।
নগরের আতুরার ডিপো কাঁচা চামড়া আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতিভুক্ত ৩৫ থেকে ৪০ জন সদস্য মূলত চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে থাকেন। এর বাইরে আরও দেড় শতাধিক ছোট বড় ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত। তবে তারা সমিতির সদস্য নন। কিন্তু চামড়া সংগ্রহের হিসাব রাখে আড়তদার সমিতি।
এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করা গেছে। আড়তদার সমিতির হিসাবে এবার ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০টি চামড়া সংগ্রহ করে তারা সংরক্ষণ করেছে। এর মধ্যে গরুর চামড়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০টি। ছাগলের চামড়া ৫৩ হাজার ৮০০টি। বাকিগুলো মহিষের।
চামড়া সংগ্রহের চিত্র অনুযায়ী প্রতিবারের মতো এবারও শহরের চেয়ে উপজেলাগুলোতে কোরবানি বেশি হয়েছে। গ্রামে কোরবানি হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০টি। শহরে ১ লাখ ৮০ হাজারের কিছু বেশি কোরবানি হয়েছে।
আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘চামড়াগুলোতে লবণ দিয়ে রাখা হয়েছে। কিছু উপজেলা পর্যায়ে লবণ দেওয়া হয়। সেগুলো আস্তে আস্তে শহরের গুদামে আনা হচ্ছে। সপ্তাহ দশদিনের মধ্যে ট্যানারি মালিকেরা চামড়া সংগ্রহ করতে চট্টগ্রাম আসবেন।’
বৃহস্পতিবার কোরবানির পর পর পাড়াভিত্তিক মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ শুরু করেন। তারা আকার অনুযায়ী ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় চামড়া সংগ্রহ করেন। এর পর তা আতুরার ডিপো চামড়ার আড়তে বিক্রি করা হয়। মাঝখানে কিছু মধ্যসত্বভোগীর হাত ঘুরে চামড়া আড়তে ঢুকে।
আড়তদারেরা প্রতিটি বড় চামড়া ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত কিনেছেন। ছাগলের চামড়া ৩০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয় আড়তদারদের কাছে। চামড়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেছেন চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন।
এবার আগে থেকেই তারা গরু মহিষের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ। সে অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এবার ঢাকার বাইরের জন্য প্রতি ফুট লবণযুক্ত চামড়া ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় যা ৬২ থেকে ৬৭ টাকা।






