জয় বাংলা স্লোগানে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফকে বিদায়

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বিদায় জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠের জানাজায় কেউ এসেছেন ফুল নিয়ে, কেউবা খালি হাতে। একবার প্রিয় মানুষের মুখ দেখতে চান তারা। জানাজা শেষে তাদের নেতার প্রতি অব্যক্ত ভালোবাসার বিস্ফোরণ ঘটেছে, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তাই বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির এই সদস্যের জানাজায় অংশ নিতে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করেছে। জমিয়তুল ফালাহ মাঠে ঢোকার আগে পুলিশের নানামুখী নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হতে হয়েছে আগত ব্যক্তিদের। ফটকে ছিল তল্লাশিচৌকি।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের তেমন কেউ ছিলেন না। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক দেবাশীষ পালিতকে দেখা গেছে। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। বিএনপির আর কোনো শীর্ষ নেতাকে দেখা যায়নি। সাবেক মেয়র জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সিপিবি নেতা কমরেড শাহ আলম ও অশোক সাহা এসেছিলেন।
সিটি মেয়র শাহাদাত শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেছেন, ‘মেয়র হিসেবে, বিএনপির পক্ষ থেকে, বলা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আমরা মনে করি, উনার অবদানের জন্য সবসময় স্মরণ রাখবে সবাই। এখানে যারা এসেছেন সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাই মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেন আল্লাহ ওনাকে জান্নাতবাসী করুন।’
মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী তার বক্তব্যে মন্ত্রী হিসেবে মোশাররফ হোসেনের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড শাহ আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলাম।’
শেখ আতাউর রহমান চট্টগ্রামের জন্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের অবদানের নানা দিক তুলে ধরেন।
প্রয়াত মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান বক্তব্যে উপস্থিতির জন্য মেয়রসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
জানাজা শেষে লাশবাহী গাড়িতে মরহুমের মরদেহ তোলা হয়। এ সময় অংশ নেওয়াদের অনেকে স্লোগান দেন, ‘মোশাররফ হোসেন তোমাকে ভুলিনি, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ স্লোগান দিতে দিতে লাশবাহী গাড়ির পেছন পেছন বের হয়ে যায় সবাই।
মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় গাড়ি। সেখানে জানাজা শেষে মোশাররফ হোসেনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।





