গুলিবিদ্ধ সেই শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন

ভাই ফয়সাল আহমেদ ও ভাবির সঙ্গে রেশমি আক্তার (মাঝখানে)
যেকোনো সময় মৃত ঘোষণা করা হতে পারে চট্টগ্রামের রৌফাবাদ এলাকায় গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমি আক্তারকে (১১)। লাইফ সাপোর্টে থাকা রেশমির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।
আজ রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরো সার্জারি ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
এর আগে ৭ মে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রেশমি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। ওই সময় গুলিতে মোহাম্মদ রাজু (২৪) চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার এক যুবক নিহত হয়।
গুলিবিদ্ধ রেশমিকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে এখন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। গতকাল শনিবার মেডিকেল বোর্ড বসানো হয়। তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা জানান।
আজ রবিবার বেলা ১১টায় আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. বাকি বিল্লাহ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘মেয়েটির অবস্থা সংকটাপন্ন। যেকোনো মুহূর্তে তাকে মৃত ঘোষণা করা হবে। শুরু থেকেই তার অবস্থা খারাপ ছিল। এখন ব্রেন ডেথ, কনসার্স লেভেল একেবারে শূন্যের কোটায়। রক্তচাপ নেই।’
রেশমির মাথা থেকে গুলি বের করা যায়নি। সে অস্ত্রোপচার করার অবস্থায় শুরু থেকেই ছিল না বলে চিকিৎসকেরা জানান। গতকাল নিউরো সার্জারি, অ্যানেসথেসোলজিসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড বসে।
আজ সকালে নিউরো সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাইফুল আলম বলেছেন, ‘মেয়েটি লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যেকোনো সময় ডেথ ডিক্লেয়ার করা হতে পারে।’
আজ সকালে আইসিইউ বিভাগের বাইরে অপেক্ষমাণ রেশমির বড় ভাই ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেছেন, ‘চিকিৎসকেরা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, আশা নেই। আমার মাকে কীভাবে খবরটি জানাব, জানি না। মাকে এখনো বলে যাচ্ছি, বোন ভালো আছে।’
দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে রেশমি পঞ্চম। বাবা রিয়াজ আহমেদ ভ্যানগাড়িতে শাক বিক্রি করেন।




