কিশোর গ্যাং সমাজের ব্যাধি: চসিক মেয়র

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ছবি: আগামীর সময়
কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য ব্যাধি হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ মন্তব্য করেন।
নগরের স্টেশন রোডে মোটেল সৈকত মিলনায়তনে আজ সোমবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস ও এনগেজমেন্টের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ চট্টগ্রাম বিভাগে ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন।
মেয়র জানালেন, এখন বড় চ্যালেঞ্জ মাদক সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং। এজন্য ট্রিটমেন্ট দরকার। শিশু কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ দরকার। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আমরা তা করছি। খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকলে তারা বিপথগামী হবে না। ব্র্যাকের মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো কিশোরদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে পারে।
ব্র্যাকের উদ্দেশে মেয়র উল্লেখ করেন, ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহের জন্য করপোরেশনের এক থেকে দেড় হাজার কর্মী দরকার। এনজিওগুলো যদি পাঁচ-ছয়টি ওয়ার্ডের ময়লা সংগ্রহের দায়িত্ব নেয়, তাহলে করপোরেশনের জন্য ভালো হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ব্র্যাক দুটি ওয়ার্ডের ময়লা সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিতে পারে।
ব্র্যাকের ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির প্রসঙ্গে মেয়রের ভাষ্য, এবার হাম বেড়ে গেল কেন? শিশুরা কি টিকা পায়নি? অন্তর্বর্তী সরকার কি টিকা দিতে পারেনি? হাম উপসর্গের রোগী বেশি কেন। আবার হামের পর নিউমোনিয়ায় কেন আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা— এসব নিয়ে গবেষণা দরকার। এ জন্য ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. নাজিমুল হক জানালেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পচ্ছিন্নতাসহ নানা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে এনজিওগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
ব্র্যাক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেন বিনিয়োগ করবে? এ ছাড়া ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর মালিকানা কেন পরিবারের উত্তরসূরিদের কাছে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামান (শিক্ষা ও আইসিটি), সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, পাবলিক প্রসিকিউটর মফিজুল হক ভূঁইয়া, নারী উদ্যোক্তা সুলতানা জাহান প্রমুখ।




