আগুনে নিঃস্ব আবুলের কান্না
‘ঘর-গরু নয়, পুড়েছে আমার কপাল’

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের রাউজানে বসতঘরে লাগা আগুনে এক গৃহস্থের সাতটি গরু পুড়ে মারা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সদর ইউনিয়নের মঙ্গলখালী গ্রামে নোয়া মিয়ার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
গরুগুলো লালন-পালন করা গৃহস্থ আবুল কালামের ভাষ্য, ‘ঘর-গরু নয়, পুড়েছে আমার কপাল।’ কোরবানির জন্য দুইটি গরু রেখেছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাত ১টা ৪৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে রাউজান ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে রাত ৩টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, একটি কাঁচা বসতঘরের সঙ্গে লাগোয়া গোয়ালঘরে থাকা সাতটি গরু আগুনে মারা যায়। গরুগুলো স্থানীয় গৃহস্থ আবুল কালামের ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গরুগুলো লালন-পালন করছিলেন। এর মধ্যে দুটি গরু আসন্ন কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।
রাউজান ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর সামশুল আলম বলেছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য, ‘বসতঘর তিনটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। গোয়ালঘর তুলনামূলক কম পুড়েছে। তবে আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গরুগুলো মারা গেছে। গোয়ালঘরের দরজা খুলে দিতে পারলে হয়তো গরুগুলো বাঁচানো যেত।’
অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত গরুগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আবুল কালাম।
তিনি বলেছেন, ‘অনেক কষ্ট করে পরিশ্রম করে গরুগুলো বড় করছি। দুইটা গরু কোরবানিতে বিক্রির জন্য রাখছিলাম। ওই দুইটার দামই আড়াই লাখ টাকার মতো হতো। সাতটা গরুর দাম কমপক্ষে সাত লাখ টাকা। আগুন আমার সবকিছু শেষ করে দিল। এখন আমি নিঃস্ব।’




