ডেঙ্গু বাড়ছে, রোগীর বাসার ৬০ বর্গফুট জুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু রোগী আগের তুলনায় লাফিয়ে বাড়ছে। এরই মধ্যে নগরের আট ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দুইভাবে ওষুধ ছিটানোতে জোর দিচ্ছে। এর একটি এডিস মশার প্রজনন এলাকার তালিকা ধরে, অপরটি রোগীর অবস্থান ধরে মশক নিধন কার্যক্রম। ডেঙ্গু রোগীর বাসার ৬০ বর্গফুট এলাকায় ওষুধ ছিটানো হবে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে। তাতে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩১৭ জন ডেঙ্গু রোগী চট্টগ্রামে পাওয়া গেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২২ জন পাওয়া গেছে জুন মাসে। জুলাই মাসের প্রথম দুই দিনে মিলেছে ১৯ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে একজন।
মূলত জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গু বাড়তে শুরু করে। তাই মৌসুমকে সামনে রেখে এখন ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা করেছে করপোরেশন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়। করপোরেশন বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করছে। এ ছাড়া প্রচারপত্রও বিতরণ হচ্ছে।
এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনের আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। ওয়ার্ডগুলো হলো যথাক্রমে জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, উত্তর কাট্টলী, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, পাথরঘাটা, দক্ষিণ হালিশহর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা। এলাকাগুলোতে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার রেখেছে করপোরেশন।
সিটি করপোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম জানান, ‘আমরা দুটি পদ্ধতিতে ওষুধ ছিটাচ্ছি। প্রজনন ক্ষেত্র ধরে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এই কাজটি চলমান রয়েছে। যেখানে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রের খবর আসছে, সেখানে গিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এ ছাড়া রোগীর ঠিকানা ধরে আশপাশের এলাকায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।’
কোনো জায়গায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেলে ওই বাড়ির চারদিকে ৬০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে এই ওষুধ ছিটানোর কাজ হচ্ছে। এ জন্য করপোরেশেন ৬০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলেছে। তারা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কাছ থেকে প্রতিদিন এলাকাভিত্তিক আক্রান্তদের তালিকা নিচ্ছে।
এখন পর্যন্ত উপজেলার ১২৯ জন এবং নগরে ডেঙ্গু আক্রান্ত পাওয়া গেছে ১১৮ জন। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সীতাকুণ্ডে ৩২ জন। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এই হিসাবের বাইরেও ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। অনেক হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয়কেন্দ্র সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রতিদিন তালিকা দেয় না। সেক্ষেত্রে অনেক আক্রান্ত তালিকার বাইরে থেকে যায়।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানালেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া করপোরেশনকে আমরা প্রতিনিয়ত রোগীর তথ্য দিচ্ছি। এখন ডেঙ্গুর মৌসুম। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে।’
এদিকে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এত বছর একটি স্বতন্ত্র ওয়ার্ড ছিল। ডেঙ্গু রোগীদের ওই ওয়ার্ডে রাখা হতো। কিন্তু চলতি বছর হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় চমেক হাসপাতালের নিচতলার ওই ওয়ার্ডটি এখন হামের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীদের সংকুলান হচ্ছে না।
জানতে চাইলে চমেক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবদুস সাত্তার বললেন, ‘এখন ডেঙ্গু রোগী আসছে। ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের এক জায়গায় রেখে চিকিৎসা দিতে পারলে ভালো হয়। হামের জন্য ডেঙ্গু ওয়ার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডের একাংশে ডেঙ্গু রোগী রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
গত বছর ৪ হাজার ৮৬৪ ডেঙ্গু রোগীর বিপরীতে ২৭ জন মারা গিয়েছিল। ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৪ হাজার ৩২৩ জন। ওই বছর মারা গিয়েছিল ৪৫ জন। তার আগে ২০২৩ সালে মোট ১৪ হাজার ৮৭ ডেঙ্গু রোগী রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে মারা যায় ১০৭ জন। ২০২২ সালে ৫ হাজার ৪৪৫ জন ডেঙ্গু রোগীর বিপরীতে মারা গিয়েছিলেন ৪১ জন।




