এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত ‘আত্মঘাতী’, ৫ দিনের সময় দিল বন্দর শ্রমিকরা

চট্টগ্রাম বন্দরের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিবাদ সভা
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দুবাই ভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত ‘আত্মঘাতী’ বলছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও সরকারদলীয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল নেতারা।
ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনগুলো। এরই মধ্যে দাবি না মানলে ৮ অক্টোবর থেকে নতুন কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিলেন শ্রমিক নেতারা।
আজ শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে চট্টগ্রাম সর্বদলীয় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এবং বন্দরের পাঁচটি সক্রিয় শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
সভায় শ্রমিক নেতারা বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার। আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোথাও কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর শতভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার নজির আছে কি না, সরকারকে তা যাচাই করতে হবে।’
তার ভাষায়, চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। তাই এ নিয়ে অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
বক্তারা অতীতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর অচল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতেও বন্দরকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তারা চান না।
তাদের অভিযোগ, দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সরকার দলীয় শ্রমিক সংগঠন ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা বলেছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, চুক্তি চূড়ান্ত করার আগেই শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসতে হবে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনা করলে রাজস্ব বৃদ্ধি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব এমন যুক্তিও তারা সরকারের সামনে তুলে ধরতে প্রস্তুত।
সমাবেশ থেকে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ৫ অক্টোবর বন্দর কাস্টমস মোড়ে দিনব্যাপী অবস্থান এবং ৭ অক্টোবর ১২ নম্বর রোড থেকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার অভিমুখে মশাল মিছিল করা হবে।
শ্রমিক নেতারা আরও জানালেন, এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি টার্মিনাল দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখা এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।



