চালের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে ২ থেকে ১০ টাকা

চাল— আগামীর সময়
দেশের চালের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোলাও চালের দাম— কেজিপ্রতি ১০ টাকা। ৫০ কেজির বস্তার দাম বেড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে চালের বাজার অস্থির হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। একই কারণে খুচরা পর্যায়েও দাম বেড়েছে। তবে চালের দর অস্থির হওয়ার পেছনে বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুদদারিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী পাইকারি চালের আড়তে ঘুরে দেখা যায়, ৫০ কেজি ওজনের প্রতিটি চিনিগুঁড়া (পোলাও) চালের বস্তার দাম ৫০০ টাকা বেড়ে ৬ হাজার ৯০০ টাকায় উঠেছে। পাইজাম আতপ চালের বস্তা ১৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ১৫০ টাকা, বেতি আতপ চাল ৭০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৮৭০ টাকা এবং স্বর্ণা আতপ চাল ২৫০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লতা মিনিকেট চাল ২৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার টাকা এবং জিরাশাইল চাল ৩৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এ ছাড়া সেদ্ধ চাল ৩ হাজার টাকা, মিনিকেট সেদ্ধ চাল ৩ হাজার ১০০ টাকা এবং মিনিকেট আতপ চাল ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে এসব চালের বস্তার দাম ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা কম ছিল।
পাহাড়তলী বাজারের আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী মা ট্রেডার্সের আবদুল আজিজ জানান, বাজারে চালের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। সামনে যদি আর ফসল নষ্ট না হয় এবং পরিবহন খরচ না বাড়ে, তাহলে চালের দাম আর বাড়বে না।
এই বাজার থেকে নিয়মিত দোকানের জন্য চাল কেনেন খুচরা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ওয়াহিদ। আজও তিনি চাল কিনতে যান। গত মাসে যে ৫০ কেজির মিনিকেট আতপ চালের বস্তা ২ হাজার ৮৫০ টাকায় কিনেছিলেন, আজ সেটি কিনতে হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। ওয়াহিদের মতে, চালের দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীদের কোনো কারণ লাগে না। তারা অপেক্ষায় থাকে কখন দেশে দুর্যোগ হবে, আর তখনই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান জানান, দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ চালের অবৈধ মজুদদারি। ঈদের পর থেকে আমদানি পর্যায়ে একটি চক্র চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।







