বোলতার বাসা নেই তো!

গ্যারেজের এক কোণে পড়ে থাকা পুরনো বুটজোড়া, বারান্দার সোফা কিংবা শিশুর প্রিয় খেলনা— সবকিছুই হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর ফাঁদ। কারণ, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উষ্ণ আর নিরিবিলি জায়গা পেলেই বাসা বাঁধছে বোলতা। তাই মানুষকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেছেন, অস্বাভাবিক সব জায়গায় বোলতার বাসা পাওয়া যাচ্ছে— ওয়েলিংটন বুট, হ্যান্ডব্যাগ, সোফার ভেতর, গাড়ির বনেট, চিমনির মুখ, এমনকি শিশুদের খেলনার মধ্যেও। ব্রিটিশ পেস্ট কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠান রেন্টোকিল জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় বোলতার বাসার কার্যক্রম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৬১ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির টেকনিক্যাল একাডেমির প্রধান পল ব্ল্যাকহার্স্ট বলেছেন, দিনের আলো আর তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলেই শীতঘুম ভেঙে বেরিয়ে আসে রানী বোলতারা। এরপর তারা বাসা তৈরির জন্য খুঁজতে থাকে নিরাপদ ও উষ্ণ জায়গা।’
পলের সতর্কতা, বসন্তে ছোট্ট একটি বাসা খুব দ্রুতই গ্রীষ্মের মাঝামাঝি বিশাল ও অত্যন্ত সক্রিয় বোলতার উপনিবেশে পরিণত হতে পারে। তাই যত দ্রুত বাসা শনাক্ত করা যাবে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করাও তত সহজ ও নিরাপদ হবে।
তবে শুধু বাসা খুঁজে পেলেই বিপদ শেষ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা নানা ‘ঘরোয়া কৌশল’ অনুসরণ করেও অনেকে বিপদ ডেকে আনছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটেনের প্রায় অর্ধেক মানুষ পোকামাকড়-সংক্রান্ত সমস্যায় পরামর্শ নিতে সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেরা বোলতার বাসা ধ্বংস করতে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, বিরক্ত করা হলে বোলতারা হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে এবং একসঙ্গে অনেককে কামড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
তারা যেসব ভুল থেকে মানুষকে দূরে থাকতে বলছেন— বোলতার বাসা কাগজের মতো দাহ্য উপাদানে তৈরি। তাই সেখানে আগুন দিলে দ্রুত অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। পানি ঢেলে ডুবিয়ে দেওয়া যাবে না। এতে বোলতারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে দলবদ্ধ আক্রমণ করতে পারে। লাঠি বা ব্যাট দিয়ে আঘাত করাও ঠিক নয়। এতে বোলতার কামড়ের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোথাও বোলতার বাসা সন্দেহ হলে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত পেশাদারদের সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে গ্রীষ্ম যত এগোয়, বোলতার উপনিবেশ তত বড় ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।


