রাশিয়ায় প্লেগ আক্রান্ত গবেষকের মৃত্যু, বন্ধ ৫ হাসপাতাল

অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মী দারিয়া শিপিলোভা। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগে এক গবেষকের মৃত্যুর পর অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোয়ারিন্টেনে রাখা হয়েছে সেখানকার শত শত মানুষকে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্কে অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মী দারিয়া শিপিলোভা নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হন। এই রোগ অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে ফেলেছিলেন বলে চিকিৎসাকর্মীদের জানিয়েছিলেন শিপিলোভা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওই কর্মী। পরে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। ১ অক্টোবর মৃত্যু হয় তার।
শিপিলোভার সংস্পর্শে এসে আসতে পারেন এমন ২০০ জনের বেশি মানুষকে এখন কোয়ারিন্টেনে রাখা হয়েছে।
ইরকুতস্কে বিভিন্ন জনসমাগমের অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্লেগ অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত মাছি এবং মারমটের মতো প্রাণীর সংস্পর্শে প্রাণী ও মানুষের মধ্যে এটি ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, নিউমোনিক প্লেগ, যাকে ফুসফুসের প্লেগও বলা হয়, রোগটির সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরন।
এতে সংক্রমণের পর দ্রুত উপসর্গ দেখা দিতে পারে, কখনো কখনো ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। এর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট ও কাশির মতো গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ। অনেক সময় কাশির সঙ্গে রক্তমিশ্রিত কফও বের হয়।
নিউমোনিক প্লেগের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২৪ ঘণ্টার মতো কম হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাসতন্ত্রের কণার মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন।
তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হলে সুস্থ হওয়ার হার বেশি। বিশেষ করে উপসর্গ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা হলে ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সূত্র: এনডিটিভি।



