যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত

সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মুহিত মাহমুদ। ছবি : আগামীর সময়
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামিক শহরের মেয়র নির্বাচনে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এগিয়ে গেছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মুহিত মাহমুদ। সর্বশেষ গণনায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডাম আলহারবির চেয়ে ১২ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
সিলেটের সন্তান মাহমুদকে এ পর্যায়ে আসতে দীর্ঘ আইনি লড়াই করতে হয়েছে।
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর রাতে প্রকাশিত বেসরকারি ফলে মাহমুদের চেয়ে ১১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান অ্যাডাম আলহারবি। পুনর্গণনার পর ব্যবধান কমে ছয় ভোটে আসে। তখনো পিছিয়ে ছিলেন মাহমুদ।
নির্বাচনের পর সিটি ক্লার্কের দপ্তরে কয়েকটি ব্যালট পাওয়া গেলে বিতর্ক শুরু হয়। এসব ব্যালটে মাহমুদের পক্ষে ভোট দেওয়া ছিল। কিন্তু ভোট গণনার সময় সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন মাহমুদ। তবে অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ শুনানি নিতে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে আইনি জটিলতায় তার লড়াই এগোচ্ছিল না।
এর মধ্যেই নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয় এবং আলহারবিকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। জানুয়ারি থেকে তিনি হ্যামট্রামিকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে গত ২৭ মার্চ মিশিগান কোর্ট অব আপিল বিতর্কিত ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেন। পরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্ট ১৬ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে গণনা শেষ করার নির্দেশ দেন।
শুক্রবার মাহমুদের জন্য আসে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সার্কিট কোর্টের নির্দেশে ৩৭টি বিতর্কিত অনুপস্থিত ভোট বা অ্যাবসেন্টি ব্যালট গণনা করা হয়। এরপর মেয়র নির্বাচনের ফলে এগিয়ে যান সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান মুহিত মাহমুদ।
ওয়েইন কাউন্টি নির্বাচন কমিশনের শুক্রবারের গণনা অনুযায়ী, মাহমুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট। অর্থাৎ মাহমুদ ১২ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
তবে এখনই বিজয়ের শেষ হাসি হাসতে পারছেন না মাহমুদ। আদালতে আরেকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। এ মামলা ভোটের সংখ্যা নিয়ে নয়। হ্যামট্রামিক শহরে মাহমুদের বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে মামলাটি হয়েছে।
সার্কিট কোর্টের বিচারক ফল পর্যালোচনা এবং মাহমুদের বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে ওঠা আপত্তির নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন বা সার্টিফাই করা হবে না।
মাহমুদ হ্যামট্রামিক শহরের বাসিন্দা কি না, তা নিয়ে পৃথক আইনি চ্যালেঞ্জ করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী। আগামী বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। একজন বিচারক অমীমাংসিত আইনি বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মাহমুদের বসবাসের স্থান বা আবাসিক যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগ ২০২৫ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই উঠেছিল। তবে ভোটাররা ভোট দেওয়ার পর এ বিষয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হয়।
মিশিগানের বাসিন্দা ও প্রবীণ সাংবাদিক হেলাল উদ্দীন রানা প্রতিক্রিয়ায় আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মাহমুদ বিজয়ের স্বাদ পেয়েছে। মিশিগানের ওয়েইন ও ম্যাকম্ব কাউন্টিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ খবর পেয়ে উৎসবে মেতে উঠেছে। বাসিন্দা-সংক্রান্ত মামলাতেও মাহমুদ জয়ী হবেন, ইনশাল্লাহ।’




