নির্বাচনের আগে ব্রাজিলে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করলেন লুলা

লুলা দা সিলভা। ছবি: রয়টার্স
ব্রাজিলে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট লুলা।
নতুন আদেশে অনলাইন বেটিং ও অনলাইন ক্যাসিনো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে ১২০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ব্রাজিলে অনলাইন জুয়ার বৈধতা দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে। এরপর দেশটিতে অনলাইন বেটিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ে দ্রুত। একই সঙ্গে আসক্তির কারণে উঠেছে বহু পরিবারের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও।
লুলা অনলাইন জুয়াকে ‘ক্যানসার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, ‘হয় আমরা এই টিউমার সরাব, নয়তো এটি আমাদের মেরে ফেলবে।’
লুলা জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। কেউ কেউ জুয়ার আসক্তির কারণে ঘরের সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছেন।
অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি এসেছে আগামী ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে। এই নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮০ বছর বয়সী লুলা।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। সর্বশেষ জরিপগুলোয় লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যে উঠে এসেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র।
লুলা জানিয়েছেন, অনলাইন বেটিংয়ের আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমারের আমলে। তার অভিযোগ, বলসোনারোর শাসনামলে এই খাত কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বড় হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বক্তব্যে লুলা আরও বলেছেন, শিশু ও কিশোরদের অনলাইন বেটিংয়ে প্রবেশ ঠেকাতেও পর্যাপ্ত বিধিনিষেধ ছিল না। তার ভাষ্য, জনগণের জীবনমানের ক্ষতি করে বেটিং কোম্পানিগুলোকে মুনাফা করতে দেওয়া হবে না।
অনলাইন বেটিং নিষিদ্ধের পাশাপাশি ওই বিলে তিনি নির্দিষ্ট ফলের ওপর বাজি ধরে অর্থ জেতার মতো জুয়াতেও শাস্তির বিধান রেখেছেন।
এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও তিনি অনলাইন বেটিং শিল্পের সমালোচনা করেছেন। তখন তিনি অভিযোগ করেন, অনলাইন জুয়া ‘আসক্তিকে মুনাফায় পরিণত করছে’।
তবে লুলার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। গতকাল শুক্রবার রিও ডি জেনেইরোর এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ পদক্ষেপকে জনতুষ্টিবাদী, ভণ্ডামিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র : বিবিসি



