‘ট্রেজারির শিকল’ ভাঙার ডাক, স্থানীয় সরকারকে আর্থিক স্বাধীনতা দিচ্ছে ব্রিটেন

সংগৃহীত ছবি
ইংল্যান্ডের স্থানীয় প্রশাসনকে আরও আর্থিক স্বাধীনতা দিতে বড়সড় ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে হাঁটছে ব্রিটিশ সরকার। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এক ঐতিহাসিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করে জানান, ওয়েস্টমিনস্টারের দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বা ‘ট্রেজারির ডেথ গ্রিপ’ ভেঙে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচিত মেয়রদের হাতে স্থানীয় আয়কর ও ব্যবসায়িক করের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই হবে ইংল্যান্ডে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়িক কর-এর বড় অংশ নিজেদের এলাকায় ধরে রাখতে পারবে। আর ২০২৮ সাল থেকে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে আদায় হওয়া আয়করের একটি অংশও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মেয়রদের নিয়ন্ত্রণে যাবে। যদিও এটি অতিরিক্ত অর্থ নয়; কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানের একটি অংশের পরিবর্তে এই অর্থ স্থানীয় প্রশাসনের হাতে যাবে। তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে মনে করছে সরকার। বিস্তারিত কাঠামো আগামী শরৎকালীন বাজেটে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয় ৷
বার্নহ্যামের বক্তব্য, এতদিন স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য লন্ডনের ট্রেজারির অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় মেয়ররা ভবিষ্যতের কর-আয়ের ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে আবাসন, গণপরিবহন, শিল্পাঞ্চল, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবেন। তার ভাষায়, ‘স্থানীয় মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন তাদের এলাকার প্রয়োজন কী। তাই সিদ্ধান্তও তাদের কাছেই থাকা উচিত।’
সরকার জানিয়েছে, শুধু করের ক্ষমতাই নয়, আবাসন, নগর পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবহন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও মেয়রদের দায়িত্ব আরও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় এখনো নির্বাচিত মেট্রো মেয়র নেই, সেখানেও সমন্বিত স্থানীয় প্রশাসন গঠনে উৎসাহ দেওয়া হবে, যাতে তারাও ভবিষ্যতে একই ধরনের সুবিধা পেতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের আশঙ্কা, তুলনামূলকভাবে ধনী অঞ্চলগুলি বেশি কর আদায় করতে পারবে, ফলে দরিদ্র এলাকাগুলি আরও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে পৃথক ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে দুর্বল অর্থনীতির এলাকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এদিকে যেসব এলাকায় এখনো নির্বাচিত মেয়র নেই, সেখানকার প্রতিনিধিদের অভিযোগ, নতুন নীতির ফলে ইংল্যান্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ এই সুবিধার বাইরে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে কর্নওয়ালের মতো কিছু অঞ্চল এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, মেয়রভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো না থাকলে তারা নতুন কর-ক্ষমতার সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহু দশক ধরে লন্ডনকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে উত্তর ও মধ্য ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে যে অসন্তোষ জমে ছিল, এই উদ্যোগ তারই জবাব। তবে পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে স্থানীয় প্রশাসনের দক্ষতা, কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার উপর।



