ফকল্যান্ডের তেল উত্তোলন নিয়ে ব্রিটেনকে আল্টিমেটাম আর্জেন্টিনার
- ‘সি লায়ন’ প্রকল্প ঘিরে নতুন সংঘাত, হামবুর্গের সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার হুঁশিয়ারি বুয়েনস আয়ার্সের
- দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সামনে আনছে লন্ডন

দক্ষিণ আটলান্টিকের ঠান্ডা জলে এবার উত্তাপ তেলের। চার দশকেরও বেশি পুরোনো সার্বভৌমত্ব বিরোধে নতুন আগুন ধরিয়েছে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে বিশাল অফশোর তেল প্রকল্প। আর্জেন্টিনা ব্রিটেনকে জানিয়ে দিয়েছে, কাজ বন্ধ না হলে এবার বিরোধ যাবে আন্তর্জাতিক আইনি মঞ্চে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সরকার জানিয়েছে, ব্রিটেনকে দুই সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্পের কাজ থামাতে। তা না হলে জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সি-তে অন্তর্বর্তী আদেশ চাওয়া হবে। প্রেসিডেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আর্জেন্টিনা নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকবে না।” বুয়েনস আয়ার্সের অভিযোগ, প্রকল্পটি তাদের সার্বভৌম অধিকারের “অপূরণীয় ক্ষতি” করছে।
‘সি লায়ন’ প্রকল্পটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে নর্থ ফকল্যান্ড বেসিনে। ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান নাভিতাস পেট্রোলিয়াম এবং ব্রিটিশ রকহপার এক্সপ্লোরেশন যৌথভাবে এটি উন্নয়ন করছে। প্রকল্পে বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু হওয়ার কথা। কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সরকারের দেওয়া বৈধ লাইসেন্সের অধীনে কাজ করছে এবং ব্রিটিশ সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো পদক্ষেপটিকে “ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন” বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আর্জেন্টিনার অনুমতি ছাড়া মালভিনাস অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান বা উত্তোলনে জড়িতদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এর আগে আর্জেন্টিনা প্রায় ৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।
তবে লন্ডনের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ফকল্যান্ড দ্বীপবাসীর নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের অধিকার রয়েছে। ২০১৩ সালের গণভোটে দ্বীপবাসীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবেই থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরিজমন্ত্রী উমা কুমারান বলেছেন, ফকল্যান্ডবাসীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সম্পদ উন্নয়নের অধিকারের পাশে সরকার থাকবে।
বিরোধের আইনি মাত্রাও ইতিমধ্যে বেড়েছে। চলতি মাসে আর্জেন্টিনার একটি ফেডারেল আদালত পরিবেশগত পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘সি লায়ন’ প্রকল্পের কাজ স্থগিতের নির্দেশ দেয়। তবে ফকল্যান্ডে সেই আদেশ কার্যকর করানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ফলে প্রায় ৪৪ বছর আগে যুদ্ধের কেন্দ্র হওয়া দ্বীপপুঞ্জে এবার সংঘাতের ভাষা বন্দুক নয়, আদালত, লাইসেন্স আর তেলের ব্যারেল।



