সাময়িক সফরে গিয়ে ১০ সপ্তাহ পর ফিরলেন বিশ্বের বয়স্ক প্রেসিডেন্ট

ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
দুই মাসেরও বেশি সময় বিদেশে থাকার পর ক্যামেরুনে ফিরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। ৯৩ বছর বয়সী এই নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি তার স্বাস্থ্য ও দেশটির ক্ষমতার শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে বিমানে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাজধানী ইয়াউন্ডের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বিয়া। তিনি ১০ সপ্তাহের বেশি সময় দেশের বাইরে ছিলেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট বিয়া ১৯৮২ সাল থেকে ক্যামেরুনের ক্ষমতায় রয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে নভেম্বরে তিনি অষ্টম মেয়াদে দায়িত্ব নেন।
গত ৭ জুন বিয়া ইউরোপে ‘স্বল্প সময়ের ব্যক্তিগত সফরে’ যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিল তার কার্যালয়। তবে শেষ পর্যন্ত এটিই তার প্রেসিডেন্ট জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে পরিণত হয়।
বিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। তিনি প্রায়ই ইউরোপে, বিশেষ করে ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ সময় কাটান। এ সময় তার দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও পরিবারের সদস্যরা দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন।
ক্যামেরুনের সংবিধানে প্রেসিডেন্টের কয়েক মাস দেশের বাইরে থাকার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে দেশটিতে কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট নেই। এ পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা বিয়ার নিজের হাতে। এ কারণে বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছে, দেশটি কার্যত ‘অটোপাইলটে’ চলছে।
বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে বিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তাকে বিমান থেকে নামতে দেখা যায়নি। তিনি কোনো সংবাদ সম্মেলনও করেননি। পরে গাড়িতে থাকা অবস্থায় সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।
প্রায় পাঁচ দশকের শাসনে বিয়ার ভূমিকা নিয়ে মিশ্র মত রয়েছে। উত্তরে বোকো হারামের সশস্ত্র তৎপরতা এবং পশ্চিমাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের পাশাপাশি স্থবির অর্থনীতি দেশটির অনেক তরুণকে হতাশ করেছে।
গত বছর বিয়ার পুনর্নির্বাচনের পর ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। সরকারি হিসাবে, ওই বিক্ষোভে অন্তত ১৬ জন নিহত হন। এতে দেশটির তরুণ জনগোষ্ঠী ও বয়স্ক প্রেসিডেন্টের মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের চিত্র উঠে আসে।
২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়া হয়। এরপর বিয়া এখন ক্যামেরুনের বেশির ভাগ নাগরিকের জীবনের চেয়েও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছেন। প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে।
এপ্রিল মাসে ক্যামেরুনের পার্লামেন্ট আবার ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ চালু করে। বিরোধীরা এর সমালোচনা করে একে বিয়ার ক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছে। কারণ, ভাইস প্রেসিডেন্টকে নিয়োগ ও বরখাস্ত করার ক্ষমতা বিয়ার হাতে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ঠিক করে দিতে পারেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কী কী ক্ষমতা ব্যবহার করবেন।
সূত্র : এপি







