ফুরিয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
হুতি হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে সৌদি আরব
- প্রাণঘাতী হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার দেশটির জ্বালানিমন্ত্রীর

ছবি: রয়টার্স
একের পর এক হুতি হামলার লক্ষ্যবস্তু সৌদি আরব। গত শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এ গোষ্ঠী। নিহত হন অন্তত ১২ এবং আহত হন ৩০০ জনের বেশি। এ হামলার পর গত রবি ও সোমবারও হুতি হামলার শিকার হয় সৌদি আরব। টানা এ হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটের মুখে পড়েছে সৌদি আরব। দেশটির কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গত সোমবার ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ কমে আসছে সৌদি আরবের।
সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। এই অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও রাজপ্রাসাদগুলোর সর্বোচ্চ সুরক্ষার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থানান্তর করছে তারা। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ গত আগস্টে একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় সৌদি আরব ও পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষা মজুদ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব তার ২ হাজার ৮০০টি ‘প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩’ প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮৬ শতাংশই ব্যবহার করে ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রায় ৬৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। যুদ্ধের আগে থাকা প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কমে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ নাগাদ নেমে এসেছে ৭৫৯টিতে। সৌদি আরবের নিজস্ব সামরিক-শিল্প সক্ষমতা সীমিত। ফলে অত্যাধুনিক অস্ত্র আমদানির পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। ঐতিহাসিকভাবেই, নিজেদের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা ও শক্তিশালী করার জন্য তারা নির্ভর করে এসেছে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী, ঠিকাদার ও প্রশিক্ষকের ওপর।
হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত সৌদির
সৌদি নেতৃত্বাধীন হুতিবিরোধী জোট গতকাল মঙ্গলবার এক্সে জানিয়েছে, রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন প্রতিহত করেছে দেশটি। গতকাল ভোরে রিয়াদ বিমান হামলার সতর্কবার্তা বা সাইরেন বাজায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শুনতে পান বিস্ফোরণের শব্দ। ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠী জানিয়েছে, গতকালও দিনের শুরুর দিকে সৌদি আরবের তাদের দখলে থাকা এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে।
আলজাজিরার গত সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা হুতিদের ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি রাজধানী রিয়াদের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, হুতিরা রিয়াদের দিকে একটি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর খামিস মুশাইতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এ তিনটিকেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সৌদি মন্ত্রীর
হুতিদের চালানো প্রাণঘাতী হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী। বিবিসির গতকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদে অনুষ্ঠিত ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেসে প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত গুরুতর। তাই আমাদের জবাবও হতে হবে সমানভাবে কঠোর।’



