পদক নয় ভাবনায় শুধুই আনন্দভ্রমণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ক্রীড়াবিদদের সাফল্য নয়, বরং দেশ-শহর দর্শন আর সরকারি খরচায় আনন্দভ্রমণ গুরুত্ব পায় এ দেশের ক্রীড়া কর্তাদের কাছে। ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হতে যাওয়া ২০তম এশিয়ান গেমসেও হতে যাচ্ছে তাই।
ক্রীড়াবিদদের সুযোগ-সুবিধা আর প্রস্তুতির কথা ভুলে কন্টিনজেন্ট তালিকায় নাম তোলাই কর্মকর্তাদের এখন প্রধান লক্ষ্য। প্রাচীন ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশ্রণে গড়া জাপান দর্শনের সুযোগটা নষ্ট করতে চান না তারা!
অথচ গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ক্রীড়াবিদরা পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় ও সুযোগ-সুবিধা। গেমস শুরু হতে কিন্তু এক মাসও বাকি নেই!
এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ. তবে প্রত্যাশা যৎসামান্য। বিওএ অর্থ ছাড় না করায় ঢিলেঢালা অনুশীলন চালাচ্ছে বেশিরভাগ ফেডারেশন। বিওএর দায় চাপাচ্ছে সরকারে, তাদের যুক্তি— সরকার বাজেট দিলেই তারা সেটি দিতে পারবে ফেডারেশনগুলোকে। যদিও অতীতে িবওএ নিজ তহবিল থেকে বরাদ্দ দিত ফেডারেশনগুলোকে। পরে সরকারের থেকে বাজেট পেয়ে সমন্বয় করত।
প্রস্তুতি ঢিলেঢালা বলে প্রত্যাশাও তলানিতে। ২০২৩ হাংজু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল ক্রিকেটে দুই ব্রোঞ্জ। কাবাডি উল্টোরথে যাত্রার পর থেকে ক্রিকেটই বাংলাদেশের পদক তালিকার নাম লেখানোর একমাত্র সম্বল। এবারও তাদের ঘিরেই যা কিছু আশা।
বিওএর ট্রেনিং সুপারভিশন কমিটির চেয়ারম্যান মেজর ইমরোজ অবশ্য আরও কয়েকটি ডিসিপ্লিন নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন— ‘আমরা সম্প্রতি সব ফেডারেশনকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছি। যারা আগেভাগে প্রস্তুতি শুরু করেছে তাদের নিয়েই আমাদের আশা রয়েছে।’
মাদার ইভেন্ট খ্যাত ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড থেকেও তেমন কিছু মিলবে েনা, তা দুই প্রতিনিধির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই প্রমাণ দিচ্ছে। স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান ও লং জাম্পার স্বপ্না খাতুন অংশ নেবেন, দুজনই গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে হতাশ করেছেন। তাদের আবার এশিয়াডে সুযোগ কেন? বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনের যুক্তি— ‘আমরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ছিলাম না। বিগত কমিটি নির্বাচন করেছে। মাদার অব দ্য গেমস খ্যাত অ্যাথলেটিকসে মাত্র দুজন খেলছে, এটি ভীষণ হতাশার।’
বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাসানের নাম ওঠেনি ভ্রমণতালিকায়। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে তার। দুই সাইক্লিস্টের ঠিকঠাক অনুশীলন হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে একটু ইতস্তত করে বললেন, ‘অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় আমরা এখনো অনুশীলন শুরু করিনি। তবে দুই সাইক্লিস্ট নিজ নিজ সংস্থায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা অবশ্য তাদের চিঠি দিয়েছি; যাতে এক জায়গায় এসে প্রস্তুতি শুরু করে।’ ক্রিকেট, ফুটবল ও হকি এবং আরচারির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে বাকিরা পদক নয়, বিভোর আনন্দভ্রমণের স্বপ্নে।






