চোখ থাকবে এবার মুশফিক-লিটনে

বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও টেকনিক্যালি সাউন্ড দুই ব্যাটার— মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা তারা। মুশফিককে তো ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ বলা হয়। লিটন আবার বাংলাদেশের সবচেয়ে নান্দনিক ব্যাটারদের একজন। অস্ট্রেলিয়া সফরে তাই এ দুজনের ব্যাটের দিকে আলাদা নজর ছিল। কিন্তু প্রথম টেস্টে প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি কেউই।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন মুশফিক। দেশের একমাত্র তিনটি ডাবল সেঞ্চুরিয়ানদের কাছে প্রত্যাশাও ছিল বেশি। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ৩৬ রান করেই থেমেছেন তিনি। অন্যদিকে চোটের কারণে প্রথম টেস্টে লিটনের খেলা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে মাঠে নামলেও ব্যাট হাতে করতে পারেননি কিছুই— ফিরেছেন শূন্য রানে।
এবার তাই ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ওপর। প্রথম টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কাছে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মাঝের সারিতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, সেটি পূরণের বড় দায়িত্ব মুশফিক ও লিটনেরই। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় টেস্টে দলের ব্যাটিংয়ের বড় পরীক্ষার জায়গাটাও এই অভিজ্ঞ জুটিকে ঘিরে। প্রথম টেস্টের আক্ষেপ ভুলে এবার তারা নিজেদের সামর্থ্যের ছাপ রাখতে পারেন কি না— সেটিই হবে ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের বড় দেখার বিষয়।
দুই ব্যাটারের চরিত্র প্রায় একই রকম। দলের বিপদে হাল ধরেন দুজনেই। সেই প্রতিযোগিতায় মুশফিকুর অনেকটা এগিয়ে। টেস্টে বাংলাদেশের ২০০ ছাড়ানো ১৫টি জুটির মধ্যে সাতটিতেই আছে মিস্টার ডিপেন্ডেবলের নাম। আর দুটিতে আছেন লিটন দাস। আবার সেই দুটিও মুশফিকের সঙ্গেই। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে মাত্র ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তখন ২০৬ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিক-লিটন। তাদের সেরা জুটি এসেছে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মিরপুর টেস্টে। মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট পড়া দলকে ষষ্ঠ উইকেট জুটিকে ২৭২ রান করে টেনে তোলেন দুজন।
ম্যাকাই টেস্টে দুই ব্যাটারের রানস্রোত আবার এক মোহনায় মিলবে কি?






