২০তম এশিয়ান গেমস
নাগোয়ায় চরম ভোগান্তিতে আরচাররা

এরকম অপরিসর কক্ষে দুজনের জায়গায় থাকতে হচ্ছে তিনজনকে
ঢাকা থেকে দীর্ঘ বিমান ভ্রমন শেষে নাগোয়া পৌঁছেই এতটা ভোগান্তির মধ্যে পরতে হবে, তা ভাবেননি বাংলাদেশের আরচাররা। শুরুটা বিমানবন্দর থেকে ওয়েলকাম হলে আসার পর থেকে। অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড সক্রিয় করে সেখান থেকে আরচারদের নিজ নিজ কক্ষ বুঝে নিয়ে বিশ্রাম করার কথা ছিল। তবে মধ্য রাত পর্যন্ত তারা ঠিক কক্ষ বরাদ্দ পায়নি।
নাগোয়া পৌঁছে আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান। গেমস উপলক্ষ্য ইতালি থেকে আনা বিশাল ক্রুজ কস্তা সেরেনায় ১৬ জন আরচার ও কর্মকর্তার জন্য আটটি কক্ষ বরাদ্দের কথা থাকলেও ওয়েলকাম হলে প্রায় আট-নয় ঘন্টা অপেক্ষার পর সেখানে গিয়ে তারা মাত্র চারটি কক্ষ বরাদ্দ পায়। শেষ পর্যন্ত ১২ জন আরচারকে চারটি রুমে গাদাগাদি করে রাত কাটাতে হয়। জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিককে আশ্রয় নিতে হয় জিমন্যাস্টিকসের দুই কর্মকর্তার কক্ষে। আরচারদের সোফায় ও মেঝেতে ঘুমাতে হয়েছে। ঠিকমতো বিশ্রামের সুযোগ না পেয়ে বুধবার ভোরে আরচারদের ছুটতে হয়েছে ট্রেনিং গ্রাউন্ডে।
জানা গেছে, এই দুর্ভোগ শেষ হয়নি এখনো। আয়োজকরা এখনো আটটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়নি তাদের। ম্যানেজার হয়ে নাগোয়ায় আসা আরচারির তানভীর রায়হান এখানে দায় দেখছেন বিওএ কর্তাদের। তার যুক্তি, বিওএ’র কাছে কোন দলের কতজন, কখন নাগোয়ায় পৌঁছাবে, সেই হিসাব আছে। তাহলে তারা কেন আগেভাগে আবাসনের ব্যবস্থা রাখেননি? তিনি বলেন, ‘আমাদের আরচারদের অনেকেই ঠিকভাবে ঘুমাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। যদি আরচারদের থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা না করা যায়, তবে কী করে তাদের কাছ থেকে ভালো ফলাফল আশা করবো? আবাসন নিয়ে এই সমস্যাগুলো বারবার বিওএ’র লোকজনকে জানিয়েছি। তারা দেখছি বলেও কিছুই করতে পারছেন না। যদি তারা সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে রাখতে না পারে, তাহলে এত এত লোকজনকে কেন এখানে এনেছেন তারা? আমার মনে হয়, বিওএ’র কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতার কারণেই অ্যাথলেটদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।’
নাগোয়াতে গেমসের শুরু থেকেই আছেন ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। অতীতে বিওএ-র কর্মকর্তা থাকাবস্থায় একাধিকবার আন্তর্জাতিক গেমসে শেফ দ্য মিশনের দায়িত্বের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘অতীতে দেখেছি আয়োজক কমিটির কাছ থেকে আবাসন আগেভাগেই বুঝে নেয় শেফ দ্য মিশন। এক্ষেত্রে কেনো এটা হলো না আমার জানা নেই। তবে আরচারদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এখানে আসার পর থেকে, যা মোটেই কাম্য নয়।’
আরচারদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন শেফ দ্য মিশন ইমরোজ আহমেদও। জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন সমস্যা সমাধানের। তবে আয়োজকদের কাছ থেকে প্রত্যাশা মতো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি, ‘আবাসন কমিটির প্রধান আরচারির ১৬ জনের জন্য ৭ রুম বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সে হিসেবে এক রুমে তিন জন থাকবে। এটা অনুমোদিত থাকলেও পরে তারা জানায়, সাত রুমে ১৪জনের বাইরে বাড়তি দুজন অফিসিয়ালকে থাকতে দেবে না। এ নিয়ে অনেক আলোচনার পর কয়েক ঘন্টা কেটে যায়। শেষ পর্যন্ত দুই জনকে অন্য হোটেলে নিতে হয়েছে। পরে অবশ্য সেই সাতটি রুমও তারা এখনো আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি।’
বিওএ এই শীর্ষ কর্তা আরও জানান, ক্রুজে বাংলাদেশের জন্য ৩১টি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছিল আয়োজক কমিটি। যেখানে সাত ডিসিপ্লিনের ৭৯জনের থাকার কথা। তবে বাস্তবে সব কক্ষ বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দেয়নি আয়োজকরা। এতেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। আগেভাগে কক্ষ বুঝিয়ে কেনো দেয়নি আয়োজকরা সেই ব্যাখ্যায় ইমরোজ বলেন,' বরাদ্দ থাকলেও রুম আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাবাডির ৩০ জনের জন্য ১২টি কক্ষ বরাদ্দ দিয়েছিল। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। পরবর্তীতে কিছু রুম বরাদ্দ পেয়ে কাবাডিকে রুম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে আরচারদের রুম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এই সমস্যা সমাধানের।’
আরচারদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে আরচারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা নিজ ব্যবস্থায় বিকল্প আবাসনের পরিকল্পনা করছেন। যদিও এতে বিশাল অর্থ খরচের বিষয়টাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। বিকল্প আবাসনের পাশাপাশি তখন তাদের আরচারদের যাতায়াত ও খাবারের ব্যবস্থাও করতে হবে।



