মার্টিন ফ্রেডরিক
আরচারদের মধ্যে লড়াকু মানসিকতার অভাব দেখেছি

সংগৃহীত ছবি
ভীষণ বাজের একটা দিন কেটেছে বাংলাদেশের আরচারদের। এশিয়ান গেমসে একদিনেই ছয় ইভেন্টে পদক সম্ভাবণা শেষ হয়ে গেছে। অথচ এই দলগত ইভেন্টগুলোতেই পাখির চোখ করেছিলেন জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। শীষ্যদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পেয়ে হতাশা চেপে রাখেননি। নাগোয়াতে আগামীর সময়ের সুদীপ্ত আনন্দ-র কাছে নিজের মনের কথা খুলে বলেছেন অভিজ্ঞ এ কোচ-
প্রশ্ন: কোচ, কেমন আছেন? আজকের দিনটা নিশ্চয় খুব ভালো কাটেনি?
মার্টিন ফ্রেডরিক: আপনি জিজ্ঞেস করছেন আমি কেমন আছি? সত্যি বললে, আজকে দিনটা মোটেই ভালো কাটেনি। আজকের দিনের ফলাফল নিয়ে একটু খারাপ লাগছে।
প্রশ্ন: আরচাররা ছয় দলগত ইভেন্টেই প্রত্যাশার অনেক আগে বিদায় নিয়েছেন। হতাশ তো হওয়ারই কথা আপনার?
ফ্রেডরিক: হ্যাঁ, আপনি নিশ্চয় খেলাগুলো দেখেছেন। কতগুলো ম্যাচ কতটা হাড্ডাহাড্ডি ছিল! ইরানের বিপক্ষে কম্পাউন্ড পুরুষ দলের শ্যুট-অফ ছিল। কম্পাউন্ড পুরুষ দল শ্যুট-অফে ১০-১০-১০ স্কোর করেছে। এর চেয়ে ভালো হওয়া সম্ভব নয়। আবার ইরানও ১০-১০-১০ করেছে। তবে তাদের শটগুলো সেন্টারের কয়েক মিলিমিটার বেশি কাছাকাছি ছিল বলে আমাদের আরচাররা বাদ পড়েছে। রিকার্ভ পুরুষ দলের ম্যাচও শ্যুট-অফে গিয়েছিল।
প্রশ্ন: রিকার্ভ নারী দলের ব্যাপারে কী বলবেন? তারা তো সেমিফাইনালে যাওয়ার ভালো সুযোগ নষ্ট করেছে?
ফ্রেডরিক: আমি ওদের পারফরম্যান্সে খানিকটা চমকে গিয়েছি। আমাদের নারী দলটি খুবই তরুণ এবং কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে তেমন ভালো করেনি। তারপরও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে র্যাংকিংয়ে চার নম্বর দল জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটা তারা শ্যুট-অফে নিয়ে যায় এবং জয় পায়। এর পরের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ সেটে আমাদের স্কোর কম হওয়ায় হেরে যাই। শেষ পর্যন্ত আমাদের মেয়েরা সপ্তম স্থান অর্জন করে।
প্রশ্ন: এরকম একটা হতাশাজনক দিনের পর আপনার কি মনে হয় যে আমাদের ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে কোনো সুযোগ আছে?
ফ্রেডরিক: প্রকৃতপক্ষে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, লড়াই চালিয়ে যাবো। আগামীকাল (সোমবার) কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত এবং পরশু রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্ট আছে। আমরা সাধ্যমতো সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব। হয়তো আজকের দিনটি খেলোয়াড়দের জন্য একটা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে তারা আরও আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে নিতে পারে, দেখা যাক কী হয়।
প্রশ্ন: কোচ, নাগোয়াতে আসার পর আপনার দলকে থাকার জায়গা, খাবার এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আপনার কি মনে হয় এটা আপনাদের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছে?
ফ্রেডরিক: আমি তা মনে করি না। কারণ আমরা এগুলো মানিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট পেশাদার। খেলার আগে আমাদের তিন দিন অনুশীলনের সময় ছিল। এটা ঠিক, শুরুটা অত সহজ ছিল না, তবে সেটার জন্য আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স এবং প্রতিযোগীতার আগের অনুশীলনে বেশ মনোযোগ দিয়েছিলাম।
প্রশ্ন: আগেই বলেছেন, আপনার দলে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। আপনি কিছু অভিজ্ঞ আর্চারকে হারিয়েছেন যারা আগের টুর্নামেন্টগুলোতে বেশ ভালো খেলেছিল। আপনার কি মনে হয় আমাদের আর্চারদের আরও অভিজ্ঞতা, আরও মনোযোগ এবং বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে খেলা প্রয়োজন?
ফ্রেডরিক: হ্যাঁ, কাজটা অত সহজ নয়। উদাহরণস্বরূপ, রিকার্ভ পুরুষ বিভাগে আরচারদের মধ্যে লড়াকু মানসিকতার অভাব দেখেছি। আরও একটু সক্রিয়তা এবং আরও একটু আক্রমণাত্মক মনোভাব দরকার ছিল। দেশে এটা না শিখে শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাঠালেই হবে না। আমার মনে হয় আরচাররা মাঝেমধ্যেই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অবশ্যই আমাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের শারীরিক গঠন ও মানসিকতায় একটা মৌলিক ভিত্তিও দরকার যাতে আমরা চাপের মুহূর্তগুলো সামলাতে পারি।
প্রশ্ন: এশিয়ান গেমসের মতো উচুমানের প্রতিযোগিতা থেকে আরচারদের আসলে কী শেখার আছে?
ফ্রেডরিক: আমি এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চাই না, কারণ আমরা এখনও টুর্নামেন্টের মাঝপথে আছি, আগামী দুই দিন আমাদের ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলো আছে। তবে এটা নিশ্চিত যে পারফরম্যান্সের মান ক্রমাগত বাড়ছে। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। এটাও ঠিক, কম্পাউন্ড অলিম্পিকে যুক্ত হওয়ায় অন্যান্য দেশের আরচারদের স্কোর অনেক উঁচুতে চলে গেছে। আমাদেরও সেই মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমরাও এগোচ্ছি, কিন্তু যথেষ্ট দ্রুত নয়। আমাদের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির গতি কিছুটা স্লথ।
প্রশ্ন: সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে আট-নয় বছর কাজ করার পর আজকের দিনটি নিশ্চয় প্রত্যাশা করেননি?
ফ্রেডরিক: আবারও বলছি, আজকের দিনটা আসলেই ভালো ছিল না। তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না। এখনও দুই দিন বাকি আছে, চলুন সামনের দিকে চোখ রাখি।



