ছবি তোলা নিয়ে আরমানের দাবি নাকচ করলেন আনিস আলমগীর

সংগৃহীত ছবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ছবিটি তুলতে ব্যারিস্টার আরমানকে অনুরোধ করেননি বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি জানান, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের অনুরোধে তোলা হয়েছিল ওই ছবিটি। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে একথা বলেন তিনি।
এর কিছু সময় আগে এক ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) দাবি করেন, আনিস আলমগীরসহ আরও কয়েকজনের অনুরোধে তিনি ছবিটি তুলেছিলেন।
আলোচিত ছবিটি আলাপ নিউজের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে তোলা হয়েছিল জানিয়ে আনিস আলমগীর লিখেছেন, ‘ছবিটি তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি নিজেই হেসে বললেন, ‘‘আপনার সঙ্গে একটা ছবি তুলতে চাই। একা একা ‘ডলারখোর’ বলে গালি শুনছি, আপনার সঙ্গে ছবি তুললে আপনাকেও কিছু গালি খাওয়ানো যাবে! আমার আসলে কিছু বলার ছিল না।’’
তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল রাত থেকেই বাঁধনের পোস্ট করা এই ছবির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে গালাগালি করা হচ্ছে— আমি কেন বাঁধন এবং যুদ্ধ অপরাধে দণ্ডিত রাজাকার মীর কাশেমের ছেলের সঙ্গে ছবি তুলেছি!’
‘মূলত সেই ছবির এক কোণায় স্থান পেয়েছিলেন জামায়াতের একজন এমপি। আর উল্টো তিনিই ছবিটি পোস্ট করে দাবি বসিয়েছেন যে, আমি নাকি তার সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করেছি! হা হা,’ যোগ করেন তিনি।
আনিস আলমগীর আরও লিখেছেন, ‘বিগত সরকারের আমলে তার সঙ্গে যা হয়েছে, সেজন্য আমি ব্যথিত ছিলাম। কিন্তু আজ তার এই মিথ্যাচারে সত্যিই কষ্ট পেলাম।’
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার আরমান ছবিটি পোস্ট করে দাবি করেন, ‘‘গতকাল সন্ধ্যায় শেলটেক গ্রুপের মালিকানাধীন নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘আলাপ’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকা সব দলের রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী সমাজের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।’’
‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একজন অধ্যাপক, কূটনৈতিক অনুষ্ঠানগুলোয় যার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয়— তার সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলাম। ঠিক সেই সময় জনাব আলমগীরসহ আরও কয়েকজন এসে আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলেন। সৌজন্যবোধ থেকে আমি ফিরিয়ে দিইনি। এখন দেখছি, আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী এতে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই— ভদ্রতা দেখানো মানে এই নয় যে, আমি জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপস করব। আমি সবার আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের বিচারের আওতায় আনার প্রশ্নে আমি অটল, আপসহীন — ছিলাম, আছি, থাকব।’
‘জুলাই কোনো সাধারণ স্মৃতি নয়— শহীদদের রক্তে লেখা অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার থেকে এক চুল সরে আসার প্রশ্নই ওঠে না,’ পোস্টে লিখেছেন ব্যারিস্টার আরমান।







