ইশরাকের পিস্তল উঁচিয়ে ধরা অনভিপ্রেত ও আইনবিরোধী: জামায়াত

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের পিস্তল উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। দলটির দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা অনভিপ্রেত ও আইনবিরোধী।
আজ রবিবার এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
‘পিস্তল উঁচিয়ে ধরা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত’ উল্লেখ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ইশরাক হোসেন পিস্তল উঁচিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়।
‘বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে’—দাবি করেন তিনি।
‘সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নানা তৎপরতার মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করছেন’
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, দেশের বিদ্যমান অস্ত্র আইন অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ছাড়া বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে এ ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করা যায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং তার দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত, আইনবিরোধী ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর করতে সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর।
অস্ত্র উচিঁয়ে ধরার বিষয়ে ইশরাক যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা গ্রহণ যোগ্য নয় বলে মনে করে জামায়াত। দলটির দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইশরাক শপথ ভঙ্গ করেছেন। এমন ঘটনা সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করতে পারে এবং সাধারণ মানুষ তা ভালোভাবে নেবে না।
সরকারের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মার্জিত ও জনবান্ধব পদ্ধতিতে মাদক নির্মূলসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।



