পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ ৩ কমিটি বাতিলের দাবি

ঢাকার শাহবাগে আজ সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা। ছবি: আগামীর সময়
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে যে তিনটি কমিটি গঠন করেছে সরকার, তা পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ হওয়ায় সেগুলো বাতিলের দাবি উঠেছে ঢাকায় এক সমাবেশ থেকে।
আজ সোমবার শাহবাগের এই নাগরিক সমাবেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান রাজনৈতিকভাবে করার আহ্বানও জানানো হয়।
গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটি গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন জাতীয় কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটি জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্ত করা ও বাস্তবায়নের ভার দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিকে সহযোগিতা করবে অন্য দুই কমিটি।
১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি এড়িয়ে এই কমিটিগুলো গঠনে আপত্তি তুলেছে জনসংহতি সমিতিসহ পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠন। শাহবাগে নাগরিক সমাবেশেও ছিল একই সুর।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন সমাবেশে বলেন, এসব কমিটির কার্যপরিধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইন ও বিধি সংস্কারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটি গঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কমিটি তিনটি বাতিলসহ আটটি দাবি জানায় সমাবেশের আয়োজক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
তার মধ্যে রয়েছে- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার, চুক্তি অনুসরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিতে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল।
সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ‘আমরা যখন ভারতে অবস্থান করছিলাম, তখন সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আদিবাসী জুম্ম শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফিরে আসার পর আমরা সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা, বরং নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে দেখেছি।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম সংকটের আশু সমাধানে জোর দিয়ে আবু সাঈদ খান বলেন, ‘একটি দেশের কোনো জনগোষ্ঠী যদি দীর্ঘদিন বঞ্চিত ও উপেক্ষিত থাকে, তাহলে সেই দেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।’
পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, এমন মত প্রকাশ করেন শামসুল হুদা।
নাজমুল হক প্রধান নানা আন্দোলনের পরও আদিবাসী ও নৃগোষ্ঠীর ভাগ্যেরও কোনো পরিবর্তন না হওয়ার দিকটি তুলে ধরেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘পাহাড়কে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে না দেখে সেখানকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝতে হবে।’



