Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
মানুষের সুরক্ষায় সাপ উদ্ধারে শামছু
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় মতামত

রপ্তানির অগ্রযাত্রা ও বাণিজ্য ভারসাম্যের নতুন দিগন্ত

ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার
agamir somoy
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ২২:৪৬
রপ্তানির অগ্রযাত্রা ও বাণিজ্য ভারসাম্যের নতুন দিগন্ত

ছবি : এআই

বর্তমান বিশ্বে যেকোনো উদীয়মান দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো তার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিগত কয়েক দশকে সাহায্যনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি বাণিজ্যনির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের রূপান্তর বিশ্ব দরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই রূপান্তরের মূলে রয়েছে দেশের রপ্তানি খাতের চোখধাঁধানো সাফল্য। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং নানামুখী অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাত যে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তির দৃঢ়তা প্রমাণ করে। রপ্তানির এই ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা কেবল আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে না, বরং দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান আমাদের এই আশাবাদের সপক্ষে এক সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ সময়ে দেশ অর্জন করেছে ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান মন্থর গতি এবং নানা অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতার মুখে এই প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিশাল আয় প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানি আয়ের এই ইতিবাচক ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

বাংলাদেশের এই গৌরবময় রপ্তানি যাত্রার অগ্রভাগে বরাবরের মতোই নেতৃত্ব দিচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। আলোচ্য অর্থবছরে এই খাত একাই ৩৯ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশেরও বেশি। কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা এই শিল্প আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এই খাতের অবদান অনস্বীকার্য। তবে একক খাতের ওপর এই বিপুল নির্ভরতা যেমন আনন্দের, তেমনি কিছুটা ঝুঁকিরও কারণ হতে পারে। বর্তমান বিশ্ববাজারের ফ্যাশন ও চাহিদার পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের পোশাক খাতকে পরিবেশবান্ধব এবং উচ্চমূল্যের পোশাকে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে, যা এই খাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে।

এই সাফল্যের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সময়টা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ইউক্রেন সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির কারণে উন্নত দেশগুলোর মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। একই সাথে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ ছিল। এমন একটি বৈরী পরিবেশের মধ্যেও আট শতাংশের বেশি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সত্যিই এক বিস্ময়কর ঘটনা। এটি প্রমাণ করে যে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে টিকে থাকার এক অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা এবং শ্রমিকদের।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে টেকসই অবস্থান নিশ্চিত করতে বাজার বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এতদিন ধরে আমাদের রপ্তানি মূলত ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে আশার কথা হলো, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের মতো বৃহৎ এবং উদীয়মান অর্থনীতির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হচ্ছে। এশিয়ার অন্যান্য বাজার যেমন ভারত ও জাপানের সাথেও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। যদিও চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভারসাম্য এখনও বহুলাংশে চীনের অনুকূলে, তবুও সে দেশের বাজারে আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক সংকেত। চীনের বিশাল বাজারে যদি শুল্কমুক্ত সুবিধার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তবে আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

তবে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হলে একটি মাত্র খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের বিকাশ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আমাদের ওষুধ শিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, যা বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে সুনামের সাথে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং হালকা প্রকৌশল খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ সরকারি নীতিসহায়তা এবং প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। এই খাতগুলো যদি উপযুক্ত অবকাঠামোগত ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তবে তৈরি পোশাক খাতের মতোই এগুলোও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে।

রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখতে এবং বাণিজ্য ভারসাম্য আরও উন্নত করতে কিছু জরুরি কাঠামোগত সংস্কার আবশ্যক। আমাদের বন্দর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি, যাতে পণ্য খালাস এবং পরিবহনে সময় ও খরচ উভয়ই কমিয়ে আনা যায়। শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। এর পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে শক্তিশালী বাণিজ্য কূটনীতি পরিচালনা করে বিভিন্ন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষর করার উদ্যোগ নিতে হবে, যা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

পরিশেষে বলা যায়, রপ্তানি খাতের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথকে সুগম করছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল নীতিসহায়তা এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে যদি এই ধারাকে টেকসই করা যায়, তবে বাণিজ্য ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়। একটি শক্তিশালী রপ্তানি খাতই পারে একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মমর্যাদাশীল করে তুলতে। উন্নয়নের এই মহাসড়কে রপ্তানি খাতকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরে রেখে বাংলাদেশ আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ, টেকসই এবং বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলবে, এটাই আজ সকলের প্রত্যাশা।

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
masarker@bau.edu.bd


    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    পিপলস রিপাবলিক অব ককরোচিয়া

    পিপলস রিপাবলিক অব ককরোচিয়া

    ২৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০৫

    advertiseadvertise