পরবাসী পৌরসভা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
মরমি কবি হাছন রাজা একদা দরদি কণ্ঠে গেয়েছিলেন— ‘ভালা কইরা ঘর বানাইয়া কয় দিন থাকমু আর’। গানটি শুনলে জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার প্রতি বৈরাগ্য তৈরি হয়। বহুবার শোনার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। সম্ভবত আমাদের পাথরঘাটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের জন্য এ গানটি শোনা বাধ্যতামূলক। আমার ধারণা সঠিক হলে ১৯৯০ সাল থেকে যারাই পৌরসভার দায়িত্বে এসেছেন, তারা সবাই এ গানটি শুনেছেন। যদি না শুনে থাকেন তাহলে আজও কেন পৌরসভার নিজস্ব ভবন তৈরি হলো না, কেন পাবলিক লাইব্রেরি ভবন দখল করে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে?
পাথরঘাটা পৌরসভা গঠিত হয় ১৯৯০ সালে। এরপর ২০১২ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণি এবং ২০২৩ সালে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা লাভ করে। অথচ গঠিত হওয়ার পর থেকে গত ৩৬ বছরেও পৌরসভার একটি নিজস্ব ভবন মেলেনি। ১৯৯১ সাল থেকে আমরা জেলা পরিষদের জমিতে ১৯৭৯ সালে নির্মিত পাবলিক লাইব্রেরির ভবন দখল করে প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
পরের ভবনে আর কতদিন? যে ভবনে আছেন সেটিও সাধারণ কোনো ভবন নয়, এটি পাথরঘাটার পাবলিক লাইব্রেরি ভবন
আমরা সাধারণ নাগরিকরা ভেবেছিলাম, ৩৫ বছর ধরে লাইব্রেরির ভবনে পরবাসী হয়ে থাকাটা হয়তো স্থান সংকট। কিন্তু পরে বুঝলাম এর পেছনে হাছন রাজার গানের গভীর তত্ত্বটি রয়েছে। তাই হয়তো বৈরাগ্য ভর করেছে। ফলে পৌরসভার নিজস্ব ভবন বানাতে চাইছেন না। কারণ স্থান সংকট হলে যেকোনোভাবে এটা সমাধান করা সম্ভব হতো। কেন হতো না? চেষ্টা করলে অবশ্যই হতো। ৩৬ বছর ধরে একটা পৌরসভার ভবন বানাতে পারলেন না? এটা বৈরাগ্য নয় তো কী!
ভবন না হয় বানালেন না। কিন্তু পরের ভবনে আর কতদিন? যে ভবনে আছেন সেটিও সাধারণ কোনো ভবন নয়, এটি পাথরঘাটার পাবলিক লাইব্রেরি ভবন। পৌরসভার বৈরাগ্যপনায় ৩৫ বছর ধরে পাঠাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। এতে পাথরঘাটার তরুণ, শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা সরকারের লাইব্রেরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তা ছাড়া এক ভবনে পৌরসভার সব কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হওয়ায় পাশের ভবনেও ছোটাছুটি করতে হয় আমাদের।
পাথরঘাটা পৌরসভার প্রশাসক বাহাদুর জানিয়েছেন, নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য নাকি ‘উপযুক্ত জমি খোঁজা হচ্ছে’। আশা করব তিনি জমিটি খুঁজে পেয়ে যাবেন দ্রুতই। তিনি না পেলে অন্তত আপনারা উদ্যোগী হবেন বলেই আশা রাখি।
ইতি
পাথরঘাটা পৌরসভার এক বাসিন্দা



