প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
- অপতৎপরতা ঠেকাতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট

সংগৃহীত ছবি
ক্রমেই তৎপরতা বাড়ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মাঝেমধ্যেই করছে ঝটিকা মিছিল, হামলা-ভাঙচুর। কখনো কখনো ঘটছে ককটেল হামলার ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফ্লাইওভার, প্রবেশ ও বহির্গমন পথসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে দুই শতাধিক চেকপোস্ট। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলের ওপরও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
গত শুক্রবার রাত দেড়টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন দুটি ককটেল নিক্ষেপ করলে বিস্ফোরণ হয় একটির। গতকাল শনিবার বিকালে এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়— ককটেল বিস্ফোরণের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি বাইকে দুজন গিয়েছিলেন। তারা কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে আশপাশে তাকান। এরপর দুটি ককটেল ছুড়ে বাইকে করে চলে যান। ওই দুই আরোহী আগারগাঁও হয়ে মিরপুর সড়কের দিকে গেছেন। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিককালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সহিংসতার পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, সামনে জনজীবনে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা চলছে।
গতকাল সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে মিছিলের প্রস্তুতির সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বললেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার ও প্রবেশপথে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রমও চলছে।
পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় চেকপোস্ট এবং টহল জোরদার করেছে। এসআরবির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী জানালেন, রাজধানী জুড়ে ৪০টির বেশি চেকপোস্ট এবং ২১টি টহল দল কাজ করছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও আভিযানিক দলও মাঠে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।



