বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ
মজুদের চাল রাখার জায়গা নেই গুদামে
- দেড় কোটি পরিবার পাচ্ছে ২৬৮০০০ টন চাল-আটা
- এ মুহূর্তে সরকারি গুদামে মজুদ ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৩২ টন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এ মুহূর্তে সরকারি গুদামে মজুদ আছে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৩২ টন খাদ্যশস্য। যার মধ্যে অন্তত ২১ লাখ টনই চাল। ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) এবং খাদ্যবান্ধব— এ দুই কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে ২ লাখ ৩৫ হাজার টন চাল-আটা সুলভমূল্যে পাচ্ছে দেশের ৭৫ লাখ পরিবার। এ ছাড়া টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার পরিবারকেও চাল দেওয়া হচ্ছে ৩৩ হাজার ৮৩৩ টন।
তিন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রায় দেড় কোটি পরিবারকে স্বল্পমূল্যে ২ লাখ ৬৮ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করছে সরকার। আগামীতে এর আওতা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ অবস্থার মধ্যেই ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি ও সমৃদ্ধি’— স্লোগানে কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হবে বিশ্ব খাদ্য দিবস।
জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘দেশে বর্তমানে খাদ্যশস্যের মজুদ ২৩ লাখ টনের বেশি, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সন্তোষজনক। নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ টন এবং আপৎকালীন মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ লাখ টন। ফলে এ মুহূর্তে দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনো শঙ্কা নেই। চলতি আমন মৌসুমেও ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে নভেম্বরের মাঝামাঝি আমন সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে।’ তিনি আরও বললেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তরের অধীন সিএসডি, এলএসডি, সাইলো, ওয়্যারহাউজসহ বিভিন্ন স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২৪ দশমিক ০৯ লাখ টন। তবে জরাজীর্ণ, পুরনো স্থাপনা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ৯২ হাজার টন ধারণক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
জানা গেছে, হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশ জুড়ে বড় পরিসরে খাদ্যসহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার। এ মুহূর্তে ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় ৭৫ লাখ পরিবারকে সুলভমূল্যে দেওয়া হচ্ছে চাল ও আটা। বছরে ছয় মাস (আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল) খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১০ লাখ টন চালের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভিটামিন এ, বি-১, বি-১২, বি-৯ (ফলিক অ্যাসিড), আয়রন এবং জিংকসমৃদ্ধ ‘পুষ্টিচাল’ বিতরণ করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪৮টি উপজেলায় চলমান রয়েছে পাঁচ মাসব্যাপী ৩ দশমিক ৭ লাখ টন পুষ্টিচাল সরবরাহের কার্যক্রম।
পাশাপাশি বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদরের ১ হাজার ৯১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভমূল্যে খাদ্যশস্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি চাল ৩০, খোলা আটা ২৪ এবং ২ কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে। দৈনিক ১ হাজার ১৮৫ টন চাল ও ১ হাজার ৪৩২ টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে ওএমএসের মাধ্যমে।
এ ছাড়া চালের ঊর্ধ্বমূল্য ঠেকাতে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় ৪১৮ উপজেলার ৮৩৬টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল বিক্রি করা হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওএমএস খাতে ৩ লাখ টন চাল ও ৫ দশমিক ২৫ লাখ টন গমের বাজেট রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদেরও চাল দিচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর। বর্তমানে ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি পরিবারের মধ্যে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হচ্ছে মোট ৩৩ হাজার ৮৩৩ টন চাল।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মু. জসীম উদ্দিন খান আগামীর সময়কে বললেন, “আমরা সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতের পাশাপাশি তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের মজুদ ক্যাপাসিটি ২৪ লাখ টন। ফলে এখন আমাদের গুদাম টইটম্বুর অবস্থা। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ক্যাপাসিটি’ আগামী পাঁচ বছরে ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। নতুন নতুন গুদাম নির্মাণের চেষ্টা করছি। কিন্তু বড় সমস্যা হলো, সুবিধাজনক জায়গায় প্রয়োজনীয় জমি মিলছে না। খাসজমি খুঁজছি।”



