দুর্গাপূজায় মণ্ডপে সিসিটিভি ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার নির্দেশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে আয়োজক, দর্শনার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুজব এড়িয়ে চলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং প্রতিমা বিসর্জনে নির্ধারিত রুট অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করতে হবে। নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।
গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। যাচাই না করে কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিওতে লাইক, কমেন্ট কিংবা শেয়ার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিসিটিভি ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র
পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। মণ্ডপে ব্যাগ, থলে বা পোটলা নিয়ে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ।
নিরাপত্তার স্বার্থে মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ে গেট বসানোর পাশাপাশি মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্ভব হলে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর বা চার্জার লাইটের ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
এ ছাড়া মণ্ডপের নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তাদের সহজে শনাক্ত করতে আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড রাখার কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রীতি বজায় রাখা
দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে মসজিদসংলগ্ন পূজামণ্ডপে আজান ও নামাজের সময় এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। পূজার সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিসর্জনে নির্ধারিত রুট অনুসরণ
প্রতিমা বিসর্জনের সময় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল সচল রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত রুট অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
জরুরি যোগাযোগের নম্বর
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কন্ট্রোল রুম: ০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭, ০১৩২০০০১২৯৯, ০১৩২০০০১৩০০; ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি): ০২২২৩৩৫৫৫০০, ০১৮১৭৬০২০৫০; ঢাকেশ্বরী মন্দির সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম: ০২৯৬১১৩৫৩, ০১৭০৫৫০৫৫২৯; এসআরবি কন্ট্রোল রুম: ০১৭৭৭৭২০০৯; ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম: ০২২২৩৩৫৫৫৫৫, ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২, ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
এ ছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা চালু জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ (টোল ফ্রি) নম্বরে ফোন করে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নেওয়া যাবে। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) যোগাযোগ নম্বর জানতে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



