প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ বিদ্যুৎ খাতে ৪ দাবি

সংগৃহীত ছবি
গ্রাহকদের ভোগান্তি ও শোষণের অভিযোগ তুলে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বাতিল, বিদ্যুৎ খাতের আয়-ব্যয় ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি। একই সঙ্গে আগের ডিজিটাল মিটার ফিরিয়ে দেওয়া, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং বিদ্যুৎ খাত বেসরকারীকরণের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক ভোগান্তি ও শোষণের প্রিপেইড মিটার বাতিল, বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়-বরাদ্দ ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশসহ চার দফা দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।
বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ।
বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বর্তমান সরকার বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘাটতি পূরণে নিত্যপণ্য, জ্বালানি তেল, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করছে। অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে জনগণের কাঁধে কর-ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ক্বাফি রতন বলেন, সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে একের পর এক ভারী শিল্প-কারখানা বিক্রির পাঁয়তারা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের পরিবর্তে বিদ্যুৎ খাতকেও বেসরকারীকরণের তৎপরতা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, শুধু উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি হলেই জনগণের কল্যাণ নিহিত হয় না। এই উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং কার স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রযুক্তি জনগণকে শোষণ করে, সেই প্রযুক্তি আমরা চাই না। জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকারের অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করা উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা রিতু বলেন, গোটা বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম-দুর্নীতির ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের বিদ্যুৎ সেবার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে লড়াইয়ের বিকল্প নেই।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য শুভ কিবরিয়া বলেন, প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান রয়েছে। দুর্নীতি দমন করা না গেলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই জনগণের কাজে আসবে না।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য মঞ্জুর আলম মিঠু, বাসদ (মাহবুব) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা শওকত হোসেন আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সাজিম আহমেদ প্রমুখ।
বৈঠকে প্রিপেইড মিটারবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা।



