জনপরিসরের নতুন ভাবনা নিয়ে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য’

ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে চলছে প্রদর্শনী। ছবি: আগামীর সময়
বঙ্গীয় বদ্বীপের জনপরিসরকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সংবেদনশীল ও মানবিক করে তোলার ভাবনাকে শিল্প ও স্থাপত্যের ভাষায় তুলে ধরতে শুরু হয়েছে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য : বঙ্গীয় বদ্বীপে জনপরিসরের স্থানিক আখ্যান’ শীর্ষক প্রদর্শনী। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে নারীবাদী নৈতিকতা, পরিবেশ-সংবেদনশীলতা এবং জনসম্পৃক্ততার আলোকে তুলে ধরা হয়েছে ভবিষ্যতের জনপরিসর নির্মাণের নানা দৃষ্টিভঙ্গি।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে উদ্বোধন করা হয় প্রদর্শনীটি। আগামী ২৮ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এটি।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) বাংলাদেশ গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের সহায়তায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরী। শিল্প ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে নারীবাদী নৈতিকতা, জলবায়ু-সংবেদনশীলতা এবং জনসম্পৃক্ততা বঙ্গীয় বদ্বীপে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক পরিসর নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান। এ সময় জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘দেশের সৃজনশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং তরুণদের বৈশ্বিক মানের কনটেন্ট উৎপাদনে উৎসাহিত করতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বর্তমান সরকার, যা আগামী দিনে সংস্কৃতি খাতে খুলে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।’
প্রদর্শনীটির কিউরেটরিয়াল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিল্পী ও কলাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকিলুর রহমান। তাদের দিকনির্দেশনায় স্থাপত্যকে শুধু ভৌত চর্চা হিসেবে নয়, বরং অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং যৌথ দায়িত্ববোধের একটি ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীতে রয়েছে স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্পের ঐতিহ্য এবং পরিবেশ-সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনাশিল্প, যার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে মানুষ, স্থান ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস এবং স্থপতি, শিক্ষাবিদ ও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ।






