রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি: গান-কবিতায় সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালিমা লেপনের চেষ্টার প্রতিবাদে গান ও কবিতায় সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ওই দেয়ালের সামনেই রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ জানান সংস্কৃতিকর্মীরা। পাশাপাশি প্রতিকৃতি মুছে ফেলার চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা।
গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরে ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
শনিবার দুপুরে সেই দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করেন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এএনএম আয়াসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেয়ালটির সামনে জড়ো হন সংস্কৃতিকর্মীরা। তাঁরা ‘সংকটের বিহ্বলতায় হইও না ম্রিয়মান’, ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমার’ ও ‘সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে’সহ রবীন্দ্রনাথের বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। আবৃত্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’।
সমাবেশে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, “রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত থাকে আমাদের হৃদয়ে- দেয়ালে তাদের ছবি মুছে দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে মুছে ফেলা সম্ভব হবে না। যেখানেই স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন, সেখানেই আমরা প্রতিরোধ করবো। বাংলাদেশকে পাকিস্তান হতে দেওয়া হবে না। একজন মুক্তিযোদ্ধাও বেঁচে থাকতেও এই দেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের দখলে যাবে না।”
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, “রবীন্দ্রনাথকে মুছে ফেলার চেষ্টা ষাটের দশকেও হয়েছিল, তারা সফল হয়নি। এখন যারা সেই চেষ্টা করছে, তারাও সফল হবে না। কয়েক মুঠো কালি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলকে মুছে ফেলা যাবে না।”
খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা সুলতানা সাথী বলেন, “বাংলাদেশ যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছি, তার বাস্তবায়ন হয়নি বলেই চব্বিশের অভ্যুত্থান হয়েছে। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের পথে যারা বাধা দিতে আসবে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হতে হবে।”
চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি আজকে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালিমা লেপন করেছে। তারা রবীন্দ্রনাথকে নয়, তারা বাংলা সংস্কৃতির ওপর আঘাত এনেছে।”
উদীচীর সহসভাপতি ইকবালুল হক খান বলেন, “আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের গান প্রেরণা যুগিয়েছে। আজকে বাংলাদেশে যদি এই মহামানবদের অবহেলা করা হয়, তবে বাংলাদেশ ঠিক পথে থাকবে না।”
সমাবেশে সংস্কৃতিকর্মী কাসেম মাসুদ, আবুল কালাম আজাদ, আরিফ নূর ও একরাম হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।



