এমপি নজরুল ফের রিমান্ডে

বৃহস্পতিবার রিমান্ড আদেশের পর গাজী নজরুলকে আদালত থেকে বের করে পুলিশ—ছবি : আগামীর সময়
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধােরর পর পাঁচটি কারণ দেখিয়ে সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। চার দিন ধরে চলে সে জিজ্ঞাসাবাদ। এখন তাকে আরো চার দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মরিময়কে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলার আসামি সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য নজরুলকে চার দিন হেফাজতে রাখার পর আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেওয়া হয়েছিল ঢাকার আদালতে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এই আসামিকে আরও সাত দিনের জন্য রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. রিপন হোসেন চার দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পরও নজরুলকে সাত দিনের জন্য রিমান্ডে চেয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। সে দফায়ও চার দিন রিমান্ডের আদেশ হয়েছিল।
এবারের রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, মামলাটি চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনার। মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি নজরুলের কাছে জানতে পেরেছেন, মরিয়ম খুবই আবেগী ছিলেন। অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন। এই তথ্যটি রিমান্ডের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে ‘কাঙ্ক্ষিত তথ্য’ পাওয়া যায়নি। তাই আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন আদালতে।
শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আসামি গাজী নজরুল ইসলাম হার্টের রোগী, তার রিং পরানো আছে। এখন চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে ২০ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, কোনো সমস্যা না।’
জামিন পেলেও নজরুল পালাবেন না, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এইভাবে হ্যারাস (হয়রানি) করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নেই। অভিযোগের সঙ্গে বিন্দুমাত্র তার সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা তার জামিন প্রত্যাশা করছি।’
তবে বিচারক জামিনের এই আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশই দেন।
নজরুলকে প্রথম দফা রিমান্ডে চাওয়ার আবেদনে বলা হয়েছিল, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় তিনি কী করছিলেন, তা জানা প্রয়োজন; আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ায় তার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা জানতে হবে; পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ও তার অবস্থান সম্পর্কে জানার দরকার; অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে জানা প্রয়োজন; ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
সেদিন নজরুলের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি এখন রয়েছেন কারাগারে। অন্য আসামি ওবায়দুর রহমানও গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তিনি মরিয়মের মামা।
মরিয়মের মৃত্যুর পর ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেছেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ। তার অভিযোগ, শ্যালক ওবায়দুর রহমানের কারণেই তার মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে।
ওবায়দুর এক সময় নজরুলের গাড়ি চালাতেন। মরিয়মের পরিবারের সঙ্গেও নজরুলের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।
গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ করেন। তবে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নৈতিক স্খলনের কারণ দেখিয়ে নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
এদিকে জুলাইয়ের পর মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার (ন্যাম ভবন) ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়মকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন নজরুল। ওই ফ্ল্যাট থেকেই ২০ সেপ্টেম্বর মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর রাতেই মাসুম বিল্লাহ মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী। সে কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেন।




