প্রধানমন্ত্রী জাপান যাচ্ছেন ২৬ অক্টোবর

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। ছবি: আগামীর সময়
দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফরের দিনক্ষণ এবং কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার জাপানে এটাই হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের প্রথম সফর। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফর হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সফরে গত জুন মাসে তারেক রহমান গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়, সেখান থেকে চীন সফরে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। এখন তিনি যাচ্ছেন জাপানে।
পররাষ্ট্রসচিব এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্বাধীনতার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে জাপান।
মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীর মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্প নির্মাণও হয়েছে জাপানের সহযোগতিায়।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা ইপিএ স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী করার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রসচিব।
পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের জাপানি বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন তিনি।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। সেখানে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন তিনি।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের প্রধান, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান, জাইকার প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সভাপতি, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর জাপানের কুৎস সিটিতে এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নাগোয়াতে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করবেন।
পররাষ্ট্রসচিব আশা করছেন, এই সফরে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাপান থেকে বাংলাদেশের নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে। এ ছাড়া চলমান প্রকল্পগুলো ত্বরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ সফর উপলক্ষে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, দেশীয় বিমান পরিবহন, বাণিজ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সরকার আধুনিকীকরণসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি করেছে সরকার।
‘আমরা আশা করি, এই স্মারকগুলোর অনেকগুলো স্বাক্ষরিত হবে,’ বলেন আসাদ আলম সিয়াম।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরে বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন তারেক রহমান। তার মধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়টিও থাকবে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব।



