কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একদিন পুরো পৃথিবী হয়তো পরিণত হবে এক বিশাল মস্তিষ্কে। দুনিয়ার এক কোণে বসে একজনের মাথায় কোনো বুদ্ধি ঠাঁই নিলে, কয়েক সেকেন্ডেই তা ছড়িয়ে পড়বে প্রতিটি মানুষের মস্তিষ্কে। সবাই সংযুক্ত থাকবে অদ্ভুত এক অদৃশ্য উপায়ে! কোনো ব্যক্তির মাথায় ঘুরবে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের সূত্র। আবার কিছু মানুষের মাথায় ঘুরবে গান বা ঘরের আসবাবপত্র কীভাবে সাজালে দেখতে পরিপাটি লাগবে, সে চিন্তা। কে, কখন ঠিক কী ভাবছে, তা সহজেই জানতে এবং বুঝতে পারবে সব মানুষ। সবার মস্তিষ্ক এক হয়ে তৈরি হবে এক বৈশ্বিক মস্তিষ্ক! ভবিষ্যতে জীবনের গোপনীয়তা বলে কিছু থাকবে না বলে মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও ভবিষ্যৎবিদ মিচিও কাকু ২০২৩ সালেই পূর্বাভাস দিয়েছেন এই ‘গ্লোবাল ব্রেন’-এর। তার এই ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে একই সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অনলাইন পাবলিশিং প্ল্যাটফর্ম মিডিয়াম।
কাকুর মতে, গ্লোবাল এই মস্তিষ্ক গঠন হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ইন্টারনেটের মিশ্রণে। এই তিনটির সংযোজনে তৈরি হবে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ একাধিক তথ্য আনতে পারবে নিজের আয়ত্তে। চাইলেই পারবে বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে। সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হবে বৈশ্বিক এই মস্তিষ্ক। মিচিও কাকুর ভবিষ্যতের এ ধারণাটি ইঙ্গিত দেয়, ‘গ্লোবাল ব্রেন’ রাখবে মানুষের মস্তিষ্কের মতোই সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যার সমাধান ও তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা। কাকুর মতে, ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য বুদ্ধিমান ব্যবস্থাসহ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক সংযোগ মানবজাতিকে নিয়ে যাচ্ছে একটি বৈশ্বিক মস্তিষ্ক গড়ে তোলার দিকে। ভবিষ্যতের সমাজ গঠন, সমস্যার সমাধান বের করা বা নানা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে এই গ্লোবাল ব্রেন। তবে এখানেই শেষ নয়। কাকুর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে ব্যবহার বাড়বে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের। এই যন্ত্রগুলো চিরাচরিত কম্পিউটারের তুলনায় বেশি নির্ভুলভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়া অনুকরণ করতে সক্ষম হবে। এতে চিকিৎসা ও জ্বালানি খাতে আসবে যুগান্তকারী অগ্রগতি। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশেও কোয়ান্টাম কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি সাহায্য করবে আরও উন্নত ও সক্ষম এআই ব্যবস্থা তৈরি করতে।






