হয়তো

আয়ারল্যান্ড। ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত এ দেশটি বিখ্যাত মনোরম সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য। সংগীত, সাহিত্য ও লোকজ ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার এ অঞ্চলটি। ভবিষ্যতের এক সকালে প্রতিদিনের মতোই হয়তো সূর্য উঠবে রাজধানী ডাবলিনে। শহরটি তখনো সুন্দর। শুধু ক্যালেন্ডারটি একটু অদ্ভুত। কারণ সালটা ২০৬৫। চারদিকে নতুন ভবন, বয়স্ক মুখ আর অদৃশ্য এক চাপ; যেন ভবিষ্যৎ নিঃশব্দে এসে দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। আজ থেকে প্রায় ৩৯ বছর পরের আয়ারল্যান্ড নিয়ে নানা পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির অর্থ বিভাগ। আবাসন, প্রবীণদের পেনশনসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে তারা। সেগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন ২০২৫ সালে প্রকাশ করে আয়ারল্যান্ডের ডিজিটাল পাবলিশিং কোম্পানি দ্য জার্নাল।
আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতির ওপর বৈশ্বিক প্রবণতা ও অন্যান্য পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেওয়া হয়েছে ২০৬৫ সালের পূর্বাভাস। এই বিশ্লেষণের জন্য দেশটির অর্থ বিভাগ তৈরি করে ২ হাজারেরও বেশি পরিস্থিতির মডেল। এর মধ্য থেকে মূল পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয় একটি ‘কেন্দ্রীয় পরিস্থিতি।’ সামগ্রিকভাবে, প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে জীবনযাত্রার মানের ধারাবাহিক উন্নতির। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অগ্রগতির গতি ক্রমশ আসতে পারে কমে। এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত ব্যয় এবং করপোরেট কর আদায়ের গতি কমে যাওয়াকে। বর্তমানের তুলনায় দেশটিতে বাড়বে প্রবীণের সংখ্যা। ৬৫ বছরের বেশি মানুষের সংখ্যা পৌঁছাতে পারে প্রায় ২০ লাখে, যেখানে বর্তমান সংখ্যা ৮ লাখ ৬০ হাজার। একজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষের পাশে তখন থাকবেন মাত্র দুজন কর্মজীবী। আজ যেখানে সংখ্যাটি প্রায় চারজন। বাড়ির গল্পটিও বদলে যেতে পারে ভবিষ্যতের আয়ারল্যান্ডে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৬০ হাজার নতুন বাড়ি তৈরি হলে, ২০৪০-এর দিকে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট কমতে পারে কিছুটা।



